খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি আবাসিক বাড়িতে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বকরের (আবু কোম্পানি নামে পরিচিত) বাসভবনে এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় বাড়ির নিচতলায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র সমালোচনা ও আতঙ্ক।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ফুটেজটিতে হামলার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, ভবনের নিচতলার গ্যারেজ অংশে দুজন ব্যক্তি সাধারণ পোশাকে চেয়ারে বসে শান্তভাবে কথা বলছিলেন। ঠিক তখনই হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে প্রবেশ করে এবং তাঁদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কথা বলার একপর্যায়ে আক্রমণকারীদের দলের সঙ্গে থাকা এক কিশোরের কোমরে গোঁজা ধারালো চাপাতি দৃশ্যমান হয়। সে নিমেষেই চাপাতিটি বের করে আনে। ঠিক সেই মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি কিশোরের হাত থেকে চাপাতিটি কেড়ে নেন এবং চেয়ারে বসা এক ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। তিনি চাপাতির উল্টো পিঠ দিয়ে ওই ব্যক্তিকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই কিশোরটি তার কাছে থাকা আরেকটি চাপাতি বের করে নেয়। সে সেখানে উপস্থিত অন্যদের কোপানোর ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং কয়েক দফায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা চালায়। গ্যারেজের মতো একটি আবদ্ধ জায়গায় এমন প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শনী ও হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে আজ শনিবার মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটির খবর পাওয়ার পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আক্রান্ত বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী আবু বকর নিজে বাদী হয়ে হামলার রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট চারজনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্তরা তাঁর পূর্বপরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই আসামিরা দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ফুটেজটি আমাদের হাতে এসেছে। আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করতে এই ফুটেজটি বড় ভূমিকা রাখছে। ভিডিওতে যাদের অস্ত্র হাতে দেখা গেছে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এজাহারভুক্ত আসামিসহ হামলার সাথে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। জনবহুল মোহাম্মদপুর এলাকায় এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও থানা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য