খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৭ পিএম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতায় ফেরার মিশনে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী দল, আর সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে সময় নেননি বাংলাদেশের পেসাররা। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ।
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলাররা মোটামুটি দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স উপহার দিলেও ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে দলকে হার মেনে নিতে হয়েছিল। সেই পরাজয়ের ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে ওঠে সিরিজ টিকিয়ে রাখার লড়াই। তাই শুরু থেকেই বাড়তি মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা, যার প্রতিফলন দেখা যায় নতুন বল হাতে।
বাংলাদেশের হয়ে স্বপ্নের সূচনা করেন অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিনি ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দিয়ে স্বাগতিক শিবিরে ধাক্কা দেন। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই উইকেট হারানোয় জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন এবং রান তোলার গতি কমে যায়।
প্রথম আঘাতের পর থেমে থাকেননি তাসকিন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আবারও সাফল্যের দেখা পান তিনি। এবার তার শিকার হন আরেক ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া। দুই ওপেনারকে দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য শক্ত ভিত গড়ে দেন এই অভিজ্ঞ পেসার। নতুন বলে তার ধারাবাহিক লাইন-লেংথ, বাড়তি গতি এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেয়নি।
তাসকিনের পর আক্রমণে যোগ দেন তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। ইনিংসের নবম ওভারে তিনি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ও অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেগ আরভিনকে মাত্র ৯ রানে আউট করে বাংলাদেশের দাপট আরও বাড়িয়ে দেন। অধিনায়কের বিদায়ে স্বাগতিকদের ওপর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং বড় জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে।
ম্যাচের ১১.৪ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪৫ রান। এই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলাররা শুধু নিয়মিত বিরতিতে উইকেটই তুলে নেননি, রান তোলার গতিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। নতুন বলের সর্বোচ্চ ব্যবহার, অফ স্টাম্পের বাইরে ধারাবাহিক লাইন, সঠিক লেংথ এবং আক্রমণাত্মক ফিল্ড সেটিংয়ের কারণে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা সহজে বাউন্ডারি আদায় করতে পারেননি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে শুরুতেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১০ ওভারে উইকেট হারালে মধ্যক্রমের ব্যাটারদের ওপর দায়িত্ব বেড়ে যায় এবং রান তোলার গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ঠিক সেই পরিকল্পনাই সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে তাসকিন ও নাহিদের সমন্বিত পেস আক্রমণ জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং পরিকল্পনাকে এলোমেলো করে দেয়।
বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কারণ দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজয় মানেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে যেত। সেই বাস্তবতায় শুরু থেকেই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামে দল। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই লক্ষ্য পূরণের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
তবে ম্যাচ তখনও অনেক বাকি। বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে মধ্য ও শেষের ওভারগুলোতেও একই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জিম্বাবুয়েকে যতটা সম্ভব কম রানে আটকে দেওয়া। অন্যদিকে স্বাগতিকদের আশা থাকবে মধ্যক্রমের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংস পুনর্গঠন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ে তোলা। কিন্তু ম্যাচের প্রথম ভাগে সব আলো ছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দখলে। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে, আর সিরিজে সমতায় ফেরার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের জন্য।
মন্তব্য