খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ২:৪২ পিএম

টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের কারণে দেশের চারটি বিভাগে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের একাধিক নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে এবং কোথাও কোথাও নদীর পানি বিপৎসীমাও অতিক্রম করতে পারে।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী তিন দিনে দেশের পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অবস্থার কারণে এসব এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল এবং উজানের পানির চাপ একযোগে বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি নদীর পানি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
Table of Contents
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে বান্দরবান ও কক্সবাজারে আগে থেকেই বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ, স্থানীয় বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দৈনন্দিন জনজীবনে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশও সাময়িকভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী তিন দিন এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের, গ্রামীণ সড়ক এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষকদের জন্য এটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কারণ আবাদি জমিতে পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে, তবে আগামী তিন দিনে এই নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এসব জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের ওপর পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি অনেকটাই নির্ভর করবে। যদি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার বিস্তার আরও বাড়তে পারে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক, মৎস্যচাষি এবং নৌপথে চলাচলকারী ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখার মতো প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারি পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য