খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১:১০ এএম

রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলার অসতর্ক মুহূর্তটিই চিরতরে কেড়ে নিল এক কিশোরের প্রাণ। কুমিল্লার লাকসামে ট্রেনের ধাক্কায় শাহরিয়ার নাঈম জয় নামের ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
অকালে ঝরে যাওয়া শাহরিয়ার নাঈম জয় লাকসাম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরকূল গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। সে স্থানীয় লাকসাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম পৌর শহরের সাতবাড়িয়া লেভেল ক্রসিংয়ের দক্ষিণ পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্রসিং থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে দুটি রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলায় মগ্ন ছিল জয়। ঠিক ওই সময় চট্টগ্রাম অভিমুখী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ডাউন লাইন দিয়ে আসছিল। ট্রেনের শব্দ ও আলো দেখে জয় কিছুটা সরে গিয়ে পাশের আপ লাইনের ওপর দাঁড়ায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক ওই মুহূর্তেই বিপরীত দিক থেকে অর্থাৎ ঢাকাগামী দ্রুতগতির আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেই আপ লাইন দিয়ে তীব্র বেগে চলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় জয় বেশ দূরে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা এক দোকানদার জানান, ট্রেন দুটি আসতে দেখে তিনি দূর থেকে চিৎকার করে জয়কে লাইনের ওপর থেকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার বারণ করেছিলেন। কিন্তু জয়ের কানে তখন মুঠোফোন থাকায় এবং সে কথা বলায় মগ্ন থাকায় সেই সতর্কবার্তা তার কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ ছুটে এসে রেললাইনের পাশে তার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে জয়ের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এলাকাবাসীর দাবি, এই একই স্থানে এর আগেও অসতর্কতার কারণে রায়হান নামের এক তরুণ ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। রেললাইনের মতো অতি বিপজ্জনক জায়গায় হাঁটার সময় মুঠোফোন ব্যবহার করা এবং চারপাশের পরিস্থিতি ভুলে যাওয়া যে কতটা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাটি আরও একবার তা প্রমাণ করল। স্থানীয়রা সবাইকে রেললাইনের ওপর বা এর আশপাশে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে লাকসাম থানা পুলিশের একটি দল নিহতের বাড়িতে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে জয়ের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে ফেলেন। রেলওয়ে পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মন্তব্য