খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১২:৮ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী শিবির ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড় ধস, পাহাড়ি ঢল এবং তীব্র জলাবদ্ধতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্যাম্পের প্রায় ১৬ হাজার বাসিন্দা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি ঢালুতে গড়ে ওঠা এই অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরগুলো পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকিতে থাকে। টানা বৃষ্টিতে মাটির বাঁধন আলগা হয়ে এবার সেই শঙ্কা প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আগামী আরও অন্তত দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বজায় রাখতে বলা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে নতুন করে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পের ভেতরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। মাটির নিচে চাপা পড়ে বা ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক যে, ৩ হাজার ১৮২ জন শরণার্থী তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৮১৩ জন মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গত কয়েক দিনে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অন্তত ১৬০টি দুর্যোগের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি স্থানে বড় ধরনের পাহাড় ধস ঘটেছে, ১৪টি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং ঝোড়ো বাতাসের কারণে ৮৩টি স্থানে ঘরবাড়ির ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এই তাণ্ডবে ১ হাজার ৬১৪টি ঝুপড়ি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১০টি আশ্রয়স্থল পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার জন্য এই পরিমাণ বৃষ্টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছে। ঘরহারা পরিবারগুলোকে নিরাপদ শিক্ষাকেন্দ্রে বা শক্ত স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি না কমলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য