খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩১ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় র্যাবের অভিযানে এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি। ঘটনাটিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে র্যাব।
মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার হওয়া শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আবুল কালামের মেয়ে এবং মোহাম্মদ ইদ্রিসের স্ত্রী।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকায় কয়েকজন মাদককারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুত করে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই তথ্য যাচাই করে গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ জুলাই একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় একটি বসতবাড়িতে প্রবেশ করলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা একটি প্লাস্টিকের ড্রাম ফেলে রেখে দ্রুত সরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে শাকিলা শারমিন রেশমীকে আটক করা হলেও অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরে ওই প্লাস্টিকের ড্রাম তল্লাশি করে ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ অত্যন্ত বড় এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেশমী মাদক ব্যবসার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র্যাব। তবে পলাতক অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে গ্রেফতার রেশমীকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও মাদক পাচার চক্র বিভিন্ন কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
র্যাব বলেছে, মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য