খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৭:২৩ পিএম

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির একটি ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে এনসিপির দুই নেতা হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা, থানায় তদবির এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার পাঁচজনকেই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম (২২), মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) এবং হৃদয় ইসলাম (২২)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং টাকা নিয়ে আসতে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠসংলগ্ন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডাকা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দুইজনকে থানায় নেওয়ার পর তাদের মুক্তির দাবিতে এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী কোতোয়ালি থানায় যান। পুলিশ অভিযোগ করেছে, এ সময় কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। পরে ওই ঘটনায় মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করছে পুলিশ।
ঘটনার পর বিষয়টি জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। দলের দিনাজপুর জেলা আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে কোতোয়ালি থানার ওসি নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত একটি বিষয় সামনে এসেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সব পক্ষের ভূমিকা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য