জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ পর্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে কলম্বিয়া। কানসাস সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই নিজেদের চেনা ছন্দে দেখা গেছে ল্যাটিন আমেরিকার এই দলটিকে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (শেষ ষোলো) নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করল কলম্বিয়া। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল তারা। এবারও সেই সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত কদম ফেলছে লরেন্স সানচেজের শিষ্যরা।
Table of Contents
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণ কলম্বিয়ার ফুটবলারদের পায়ে। বল দখলের লড়াইয়ে তারা প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেয়নি; পুরো ম্যাচের ৬১ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। আক্রমণভাগের দুর্দান্ত সমন্বয়ে ঘানার রক্ষণভাগকে তছনছ করে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ৮টি শট নেয়।
ম্যাচজুড়ে কলম্বিয়া অন্তত ৪টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ফরোয়ার্ড আলভারো পুয়ের্তা ও লুইস দিয়াজদের কিছুটা ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে ব্যবধান আরও বড় হতে পারেনি। অন্যদিকে ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি আজ চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মোজিকার একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করে তিনি ঘানাকে বড় পরাজয়ের লজ্জা থেকে রক্ষা করেন।
ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি আসে প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ম্যাচের ঠিক ১৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কলম্বিয়ার তারকা মিডফিল্ডার জন আরিয়াস। ডি-বক্সের ভেতর সতীর্থের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার শটে ঘানার জাল কাঁপান তিনি। এই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচের আলোচিত ঘটনা: ম্যাচের শেষভাগে লিভারপুল তারকা লুইস দিয়াজ ঘানার জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠলেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে লাইন্সম্যান অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন। খুব সামান্য ব্যবধানে অফসাইডের ফাঁদে পড়েন এই ফরোয়ার্ড।
বিপরীতে, আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল ঘানার জন্য এই ম্যাচটি ছিল চরম হতাশার। কলম্বিয়ার জমাট রক্ষণব্যূহ ভেদ করা তো দূরের কথা, পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় ঘানার কোনো ফুটবলার কলম্বিয়ার গোলপোস্ট বরাবর একটিও ‘অন-টার্গেট’ শট নিতে পারেননি। আক্রমণভাগের এই চরম ও অবিশ্বাস্য ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ করতে হলো ঘানাকে।
ঘানার বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটলেও কলম্বিয়ার সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ডের।
কলম্বিয়ার বিগত কয়েক আসরের বিশ্বকাপের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও তারা নকআউট পর্বে উঠেছিল। তবে সেবার শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে পারেনি দলটি, টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি তারা, যা ছিল দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়।
বিগত আসরের সেই হতাশা কাটিয়ে এবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কলম্বিয়া। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন হাইভোল্টেজ ম্যাচে লুইস দিয়াজ ও জন আরিয়াসরা যদি কানসাস সিটির এই ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে এবার কলম্বিয়া বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক দূর যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের।
মন্তব্য