জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ২:২৩ পিএম

ব্রাজিলের পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পায়ের জাদুতে বুঁদ ফুটবল বিশ্ব। গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে তার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু মাঠের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের রহস্য কী? এই নিয়ে যখন ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এক মজার দৃশ্য। নেটিজেনদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ভিনিসিয়ুসের এই অতিমানবীয় ফর্মের নেপথ্যে কি তবে কোনো বিশেষ ‘লাকি চার্ম’ রয়েছে, যার নাম আনারস?
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি এখনো সমর্থকদের মনে তাজা। সেই ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুম ছেড়ে টানেল দিয়ে যখন খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন ভিনির হাতে দেখা যায় এক টুকরো আনারস। শুধু তাই নয়, আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ম্যাচের আগের ওয়ার্ম-আপের সময় এবং প্রথমার্ধের খেলা শেষে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেও অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে আনারস চিবোচ্ছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ব্যাস, এই দৃশ্য ক্যামেরায়বন্দি হতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
ভিনিসিয়ুসের এই আনারস-প্রীতি অবশ্য রাতারাতি তৈরি হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট কিংবা টানেলে প্রায়শই তাকে বিভিন্ন ফল খেতে দেখা যায়। তবে এই বিষয়টি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করে ২০২৪ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মহারণের আগে একইভাবে আনারস খেয়ে মাঠে নেমেছিলেন ভিনি। এরপর মাঠে যা ঘটেছিল, তা ইতিহাস। বার্সার রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেন তিনি, যা রিয়ালকে শিরোপা এনে দেয়। সেই ম্যাচের পর থেকেই মূলত সমর্থকরা রসিকতা করে আনারসকে ভিনির সৌভাগ্যের প্রতীক বা ‘লাকি চার্ম’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে শুরু করেন।
ম্যাচের আগে আনারস খাওয়াকে ভক্তরা ভাগ্য বলে উড়িয়ে দিলেও, ক্রীড়া পুষ্টিবিদরা কিন্তু এর পেছনে শতভাগ বিজ্ঞান দেখছেন। আধুনিক ফুটবলে যেখানে প্রতি সেকেন্ডে তীব্র গতি ও শক্তির প্রয়োজন হয়, সেখানে আনারস একজন অ্যাথলেটের জন্য আদর্শ জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান: আনারসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি বা কার্বোহাইড্রেট রক্তে মিশে দ্রুত শক্তি উৎপন্ন করে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভারী খাবার যেমন পেট ভরিয়ে অলসতা তৈরি করে, আনারস খেলে তেমন কোনো অস্বস্তি হয় না। খেলোয়াড়রা মাঠে নামতে পারেন একদম হালকা শরীরে।
পানিশূন্যতা রোধ: ৯০ মিনিটের হাই-ইনটেনসিটি ম্যাচে ফুটবলারদের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে। আনারসে প্রায় ৮৫ শতাংশ পানি থাকায় তা শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ক্লান্তি আসতে দেয় না।
ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিনের ম্যাজিক: তীব্র শারীরিক কসরতের কারণে পেশিতে যে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, আনারসের ভিটামিন সি তা দ্রুত কমিয়ে আনে। এর পাশাপাশি এই ফলে থাকা ‘ব্রোমেলিন’ নামক বিশেষ এনজাইমটি প্রোটিন হজমে সাহায্য করে এবং ম্যাচের ধকল শেষে পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত শরীরকে চাঙ্গা (রিকভারি) করে তোলে।
ব্যক্তিগত অভ্যাসের বাইরেও ব্রাজিল জাতীয় দলের ফুটবলারদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পুষ্টি পরিকল্পনা রয়েছে। সেলেসাওদের মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের খাদ্যতালিকায় কলা ও আনারসের মতো ফল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারণ উচ্চগতির আধুনিক ফুটবলে স্ট্যামিনা ধরে রাখতে এই ফলগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত।
তাই ভিনিসিয়ুসের আনারস খাওয়াকে বাইরে থেকে কেবলই মজার একটি কুসংস্কার বা ‘টোটকা’ মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে ক্রীড়া বিজ্ঞানের নিখুঁত প্রয়োগ। আর এই বিজ্ঞানের ওপর ভর করেই সবুজ গালিচায় একের পর এক জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলের এই নাম্বার সেভেন।
মন্তব্য