জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত নবী

বাবার শেষবিদায়ের মুহূর্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলো চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরা অবস্থাতেই বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহাদাত নবী।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চন্দনাইশ পৌরসভার স্থানীয় একটি মসজিদে শাহাদাত নবীর বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ও স্থানীয় পুলিশের বিশেষ পাহারায় তাকে গাজীপুর থেকে সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পুলিশ পাহারায় তাকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহাদাত নবীর পরিবারের সদস্যদের তথ্যানুযায়ী, তাঁর বাবা নুরুনবী সওদাগর (৮৮) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চন্দনাইশের একটি স্থানীয় হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর কারাবন্দী শাহাদাত নবী শেষবারের মতো বাবাকে দেখা ও জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য কাশিমপুর কারাকর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তির আইনি আবেদন জানান।

পরিবারের আকুল আবেদন এবং কারাবিধির বাধ্যবাধকতা পর্যালোচনা করে গাজীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত নবীকে সাড়ে ১১ ঘণ্টার জন্য শর্তসাপেক্ষ প্যারোলে মুক্তির অনুমতি প্রদান করেন। মঞ্জুরীকৃত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় সোমবার ভোর ৪টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

শাহাদাত নবীর চাচা নুরুল আলম জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ পাওয়ার পর পুলিশি সুরক্ষায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শাহাদাত নবীকে চন্দনাইশে নিয়ে আসা হয়। বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে তারা চন্দনাইশে পৌঁছান। দুপুর ২টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি বাবার জানাজার নামাজে শরিক হন। জানাজা শেষে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে নুরুনবী সওদাগরকে দাফন করা হয়। এ সময় উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে শোকের আবহ তৈরি হয়।

নুরুল আলম আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের ১২ আগস্ট রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে শাহাদাত নবীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে তিনি চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন মিয়া জানান, শাহাদাত নবীর বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মোট তিনটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বাবার মৃত্যুসংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে তাকে জানাজাস্থলে আনা হয়েছিল। দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে চন্দনাইশ থেকে তাকে নিয়ে পুলিশ গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর