জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

৫০ পিস টাপেন্টাডল ও হেরোইনসহ বগুড়ার প্রথম জুলাই ‘শহীদ’ শুভ’র পালক মা শাপলা গ্রেফতার

বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রাণ হারানো প্রথম ‘শহীদ’ সিয়াম শুভর পালক মা ও এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাপলা বেগমকে (৪৫) বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ সোমবার সকালে শহরের চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করে। আটককালে তার কাছ থেকে ৫০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত শাপলা বেগম বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকার মো. আশিকের স্ত্রী। তার পালিত ছেলে কিশোর সিয়াম শুভ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সেউজগাড়ী আমতলা মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরবর্তীকালে বগুড়ায় আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পায় শুভ। ছেলে নিহত হওয়ার পর থেকে এলাকায় একটি বাড়তি সহানুভূতি ও সামাজিক প্রভাব তৈরি হয়েছিল শাপলার। তবে পারিবারিক ট্র্যাজেডি ও ছেলের রাজনৈতিক পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেও তিনি নিজের পুরনো অপরাধজগৎ থেকে বেরিয়ে আসেননি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি অনুযায়ী, শাপলা বেগম ওই অঞ্চলের অন্যতম কুখ্যাত ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান, চুরিসহ নানা অপরাধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিপূর্বেও একাধিকবার তিনি মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে জেল খেটেছেন, তবে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিবারই পুনরায় একই অবৈধ কারবারে লিপ্ত হয়েছেন।

কেবল মাদক ব্যবসাই নয়, পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের আগস্ট মাসে শাজাহানপুর থানার একটি চুরি মামলার আসামি রনিকে গ্রেফতার করতে ডিবি পুলিশের একটি দল চকসূত্রাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সে সময় শাপলা বেগম এবং তার স্বামী আশিকের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোটা, লোহার রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আভিযানিক দলের ওপর হামলা চালায়। এতে ডিবি পুলিশের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার পর পুলিশ শাপলাকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তিনি আদালত থেকে জামিন পান।

অভিযান পরিচালনাকারী বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, শাপলা বেগমের দীর্ঘদিনের মাদক কারবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। সবশেষ আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের আদেশে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকের নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর