খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ২:২৫ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় খুশি রানী (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগতির একটি ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাক্টরের চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বাবা ও মা। এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের হলদিয়াপুকুর এলাকায় পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি বোদা হাইওয়ে থানার সামনের অংশ হওয়ায় দুর্ঘটনার খবর দ্রুত পুলিশ ও স্থানীয়দের নজরে আসে।
নিহত খুশি রানী বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার বাসিন্দা কুকিল চন্দ্র ও সুরমা রানী দম্পতির মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তানকে হারিয়ে স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, এক স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে পরিবারের তিন সদস্য মোটরসাইকেলে করে পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলের সামনে বসেছিল খুশি রানী। তারা ময়দানদীঘি-হলদিয়াপুকুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক্টর মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে যান।
এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাক্টরের একটি চাকা খুশি রানীর পেটের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজনকে উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুশি রানীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাবা ও মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টরটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চালক পালিয়ে যান। পুলিশ ট্রাক্টরটি জব্দ করেছে এবং চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বোদা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ জানান, ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা শিশুটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এরপর ট্রাক্টরের চাকার নিচে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে ধীরগতির কৃষিযান এবং দ্রুতগতির অন্যান্য যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করায় প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত সতর্কতা না মানা, বেপরোয়া গতি এবং অসাবধানী চালনার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তাই মহাসড়কে কৃষিযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গতিসীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একটি আনন্দঘন পারিবারিক সফর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় অপূরণীয় শোকে। বাবা-মায়ের চোখের সামনে আট বছরের খুশি রানীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
মন্তব্য