রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ব্যস্ততম সড়ক এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড় থেকে ককটেলসদৃশ কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টার দিকে বাটা সিগন্যাল থেকে নিউমার্কেটগামী প্রধান সড়কের পাশ থেকে একটি লালাভ-লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগে বস্তুগুলো পাওয়া যায়। ব্যস্ততম ওই এলাকায় আতঙ্কজনক এই ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং যানবাহনের যাত্রীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য চরম ভীতি ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং মোড়ের ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, রাত সাড় ৯টার পর বাটা সিগন্যাল মোড়ে মাস্ক পরা চার-পাঁচজন অজ্ঞাত যুবক হঠাৎই নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। তাদের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে আশেপাশের লোকজন কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করলে যুবকরা দ্রুত সটকে পড়ে। পালিয়ে যাওয়ার পরপরই ফুটপাতের এক কোণে একটি পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগ পে পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। ব্যাগের মুখ কিছুটা খোলা থাকায় ভেতরে লাল রঙের টেপে পেঁচানো বেশ কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু স্পষ্ট চোখে পড়ে। বিপদ টের পেয়ে স্থানীয়রা সাথে সাথে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ও নিউমার্কেট থানায় খবর পাঠান।
খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিউমার্কেট থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত জায়গাটি লাল ফিতা টেনে চারপাশ ঘিরে ফেলেন। সাময়িকভাবে ওই অংশে পথচারীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিউমার্কেটমুখী যানবাহন চলাচল কিছুটা ধীরগতির করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পরবর্তীতে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দলটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপত্তার মেকানিজম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুগুলো উদ্ধারের কাজ শুরু করে। উদ্ধার করা বস্তুগুলো ককটেল নাকি অন্য কোনো বিপজ্জনক উপাদান, তা পরীক্ষার জন্য বিশেষ কন্টেইনারে সংরক্ষণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দল সেখানে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই উদ্ধার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আইনি পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করে।
হঠাৎ এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল ও আশপাশের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নিউমার্কেট ও সায়েন্সল্যাবমুখী প্রধান সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরবর্তীতে নিউমার্কেট থানা পুলিশ ট্রাফিক ব্যবস্থার সমন্বয় করে বিকল্প উপায়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে আনে। ককটেলসদৃশ বস্তুগুলো কী উদ্দেশ্যে বা কারা ফেলে গেছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক কোনো পক্ষ এটি করেছে নাকি যুবকদের মধ্যকার কোন্দলের ফল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে নিউমার্কেট থানার দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তবে থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য বাটা সিগন্যাল মোড়, আশেপাশের বিপণিবিতান ও বহুতল ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।









