লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে দলীয় অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক রাজনৈতিক যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
‘সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক। সেখানে বলা হয়, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই সংসদ সদস্য স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের মতো করে সাংগঠনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সালেকুজ্জামান প্রামাণিক অভিযোগ করেন, এমপি রোকন উদ্দিন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে জাতীয় পার্টি, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ স্থানীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করছেন। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং দলীয় ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার বিকেলে আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তিনি একটি বিশেষ সভার ডাক দিয়েছেন, যা মূল কমিটির নেতারা জানেন না। এছাড়া গত ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের পর এমপির নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে নতুন সভা করার ঘটনা নিয়ে তৃণমূলে তুমুল ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সংগঠনকে ভাগ করার অপচেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার বিকেলের কর্মী মূল্যায়ন সভাটি বানচাল এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই অসত্য সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে যারা গোপনে তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন, তারাই এখন নতুন করে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন।
এ বিষয়ে মতামত জানতে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে মুঠোফোন ও মেসেজিং অ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।









