খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) বিকেলে বন্দর উপজেলার ঝাউতলা এলাকার একটি চার তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারীর নাম সাথী আক্তার (৩৮)। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আদমজী সুমিলপাড়া (শিমুলপাড়া) বিহারী কলোনি এলাকার বাসিন্দা রাজু মিয়ার মেয়ে। সাথী আক্তারের স্বামী মো. জনি (৪০) পেশায় একজন স্থানীয় সেলুন কর্মচারী এবং তিনি একই এলাকার আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। বন্দর উপজেলার কলাবাগ ঝাউতলা সরদার বাড়ি এলাকার ইব্রাহীম মিয়ার বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে তাঁরা পরিবারসহ দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন।
গত বুধবার বিকেল বেলা স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে সাথী আক্তারের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে ঘরের তালাবদ্ধ অবস্থায় নিহতের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং সেখান থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহত সাথী আক্তারের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৈবাহিক জীবনে এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার মাত্র ১২ দিন পূর্বে তাঁদের একমাত্র মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের ১৬ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যে স্থানীয় বন্দর এলাকায় একটি কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ ও বিরোধ চলছিল।
প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বুধবার দুপুরে বা বিকেলে পারিবারিক কলহের চরম একপর্যায়ে স্বামী মো. জনি তাঁর পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্ষুর বা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী সাথী আক্তারের গলায় আঘাত করেন। নিহতের গলার এক পাশে গভীর ও মারাত্মক কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের এই নৃশংস ঘটনাটি সম্পন্ন করার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী জনি ফ্ল্যাটটিতে তালা লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা প্রসঙ্গে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সংবাদ প্রাপ্তির পর পুলিশ দ্রুত ঝাউতলা এলাকার ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে নিহতের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলার এক পাশে ধারালো ও তীব্র অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন বা কোপ রয়েছে, যা সুরতহাল প্রতিবেদনে যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করার জন্য মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মো. জনি পলাতক থাকায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। জনিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।
| তথ্যের ক্যাটাগরি | ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও যাচাইকৃত বিবরণ |
| অপরাধের ধরণ | ধারালো অস্ত্র বা ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে হত্যাকাণ্ড |
| নিহত ভুক্তভোগী | সাথী আক্তার, বয়স ৩৮ বছর |
| নিহতের স্থায়ী ঠিকানা | আদমজী সুমিলপাড়া বিহারী কলোনি, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ |
| প্রধান অভিযুক্ত (পলাতক) | মো. জনি, বয়স ৪০ বছর (পেশায় সেলুন কর্মচারী) |
| ঘটনার স্থান | ইব্রাহীম মিয়ার বাড়ি (৩য় তলা), ঝাউতলা, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার বিকেল/সন্ধ্যা |
| পারিবারিক তথ্য | ৫ বছর ধরে ভাড়াটিয়া; ২টি সন্তান (১৬ বছরের ছেলে ও ১২ দিন আগে বিবাহিত মেয়ে) |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরিত; মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান |
মন্তব্য