ডেমরায় স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণে তিন দগ্ধ

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় স্টিল গলানোর একটি কারখানায় আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ডেমরার বাঁশেরপুল এলাকায় অবস্থিত জহির স্টিল মিলসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য শ্রমিকরা দ্রুত কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের বরাতে জানা যায়, কারখানার চুল্লিতে লোহা গলানোর কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চুল্লির ভেতরে থাকা অতি উত্তপ্ত গলিত লোহা ছিটকে আশপাশে থাকা শ্রমিকদের শরীরে এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনজন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।

দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন সাব্বির হোসেন (২৮), তোফাজ্জল হোসেন (৪৮) এবং মাজেদ হোসেন (৫২)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির ও মাজেদের বাড়ি রংপুর জেলায় এবং তোফাজ্জলের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ডেমরা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কারখানাটিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সূত্র জানায়, আহতদের শরীরের দগ্ধ হওয়ার মাত্রা একেকজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন। দুইজন শ্রমিকের অবস্থা গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর একজনকে স্বল্প পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও বাকি দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের দগ্ধ হওয়ার মাত্রা ও বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—

শ্রমিকের নামবয়সদগ্ধ হওয়ার হারবর্তমান অবস্থা
সাব্বির হোসেন২৮ বছর৩৫ শতাংশহাসপাতালে ভর্তি, গুরুতর
তোফাজ্জল হোসেন৪৮ বছর২৩ শতাংশহাসপাতালে ভর্তি, পর্যবেক্ষণে
মাজেদ হোসেন৫২ বছর১ শতাংশপ্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গলিত লোহার ছিটকে পড়ার কারণে আক্রান্তদের ত্বক ছাড়াও গভীর টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সাব্বির হোসেন ও তোফাজ্জল হোসেনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বিস্ফোরণের সময় কারখানাটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পরপরই অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার চুল্লিতে কাজের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং শ্রমিকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে পারে। তারা আরও মনে করেন, কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা মান পর্যবেক্ষণ জোরদার করা জরুরি, যাতে শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি কমানো যায়।

বর্তমানে আহত দুই শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছে স্থানীয়রা।