টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রভাব এখন সীমিত ওভারের প্রায় সব ধরনের ক্রিকেটেই স্পষ্ট। ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক মানসিকতায় নিয়মিতই গড়ে উঠছে বড় বড় ইনিংস ও দলীয় সংগ্রহ। ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটেও এবার দেখা গেল তেমনই এক বিস্ময়কর ব্যাটিং প্রদর্শনী। নর্দান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (এনপিসিএল) ৪০ ওভারের এক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ম্যাথু ডি ভিলিয়ার্স খেলেছেন ৮৮ বলে ২৪৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।
এই ইনিংসে তিনি মারেন ২৩টি চার ও ২২টি ছক্কা। অর্থাৎ শুধুমাত্র বাউন্ডারি থেকেই আসে ২২৪ রান। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে লংরিজ ক্রিকেট ক্লাব নির্ধারিত ৪০ ওভারে তোলে ৪৪৭ রান। ম্যাচটিতে ডি ভিলিয়ার্সের পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন ব্যাটারও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। জশুয়া মুলিন, রিচস মরগান ও রব হলিংরাস্ট প্রত্যেকেই ফিফটি করেন, যা দলীয় বিশাল সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইংল্যান্ডের এই ক্লাব প্রতিযোগিতার ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বজায় রেখে তিনি দ্রুত রান তুলতে থাকেন। বিশেষ করে ম্যাচের ৩৬তম ওভারে ঘটে বিরল এক ঘটনা। জশুয়া ডেনরিথের করা ওই ওভারের ছয়টি বলই সীমানার বাইরে পাঠান তিনি। টানা ছয় ছক্কার এই কীর্তি তার ইনিংসকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। এক ওভারে ছয় ছক্কা মারার ঘটনা ক্রিকেটে খুবই বিরল এবং এটি সাধারণত ব্যাটারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ছয় ছক্কার ওই ওভারের পরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান ডি ভিলিয়ার্স। তবে পরের ওভারেই ক্যাচ দিয়ে ইনিংসের ইতি ঘটে ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারের। আউট হওয়ার আগে মাত্র ৮৮ বল মোকাবিলা করে তিনি ২৪৭ রান সংগ্রহ করেন, যা ম্যাচটির প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়।
লংরিজ ক্রিকেট ক্লাবের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েলি ক্রিকেট ক্লাব শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের সামনে তারা সুবিধা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত দলটি মাত্র ১১২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ৩৩৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় লংরিজ।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠেও অবদান রাখেন ডি ভিলিয়ার্স। উইকেটরক্ষক হিসেবে তিনি নেন দুটি ক্যাচ। এছাড়া বল হাতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখেন হোয়াইটহেড, যিনি চারটি উইকেট শিকার করেন। তার বোলিং ওয়েলির ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত গুটিয়ে দিতে সহায়তা করে।
তবে ডি ভিলিয়ার্সের এই ইনিংসটি আনুষ্ঠানিক রেকর্ড বইয়ে স্থান পাবে না। কারণ নর্দান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ স্বীকৃত কোনো অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট নয়। ফলে পরিসংখ্যানগতভাবে এটি লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ডের অংশ হিসেবে গণ্য হবে না।
বর্তমানে স্বীকৃত লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড রয়েছে ভারতের নারায়ণ জগদীশানের দখলে। ২০২২ সালে বিজয় হাজারে ট্রফিতে তামিলনাড়ুর হয়ে অরুণাচলের বিপক্ষে তিনি ২৭৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ইনিংসটি এখনো লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে স্বীকৃত।
ক্লাব ক্রিকেটের ম্যাচ হলেও ডি ভিলিয়ার্সের ২৪৭ রানের ইনিংস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২২টি ছক্কা ও এক ওভারে টানা ছয় ছক্কার ঘটনা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটারদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মানসিকতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
