খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ে ফেরার মাসখানেকের মাথায় না-ফেরার দেশে চলে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় ফুটবল দলের তরুণ মিডফিল্ডার জেডেন অ্যাডামস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা তথা বিশ্ব ফুটবলাঙ্গনে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিটি ম্যাচেই মাঠ কাঁপানো এই ফুটবলারের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
সবশেষ গত ১১ জুন দিবাগত রাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন এই তরুণ। এরপর দেশের হয়ে আরও ঐতিহাসিক কিছু ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু কে জানত, মাঠের সেই লড়াকু ফুটবলার জীবনের ম্যাচ থেকে এত দ্রুত বিদায় নেবেন!
Table of Contents
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল দল এক অবিশ্বাস্য রূপকথা উপহার দিয়েছিল। আর সেই রূপকথার অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন জেডেন অ্যাডামস। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই দলের শুরুর একাদশে (স্টার্টিং ইলেভেন) ছিলেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করেই দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর লড়াইয়ে স্বাগতিক কানাডার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকান দলটিকে। কিন্তু জেডেনসহ পুরো দল যে বীরত্ব দেখিয়েছিল, তা সমর্থকদের হৃদয়ে দাগ কেটে যায়।
পেশাদারিত্বের অনন্য নজির: বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যখন চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর দাদির মৃত্যুসংবাদ পান। এমন কঠিন মানসিক আঘাত এবং স্বজন হারানোর বেদনা বুকে চেপেও তিনি সেদিন দেশের জন্য মাঠে নেমেছিলেন।
জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবরটি পেয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল তার অন্যতম উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভাকে হারাল।”
মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, জেডেন একজন সাধারণ একাডেমি খেলোয়াড় থেকে যেভাবে নিজের যোগ্যতায় জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা। তাঁর এই অকাল প্রস্থানে পরিবার, সতীর্থ ও লাখো ভক্তের সঙ্গে পুরো দেশ আজ স্তব্ধ। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ক্রীড়ামন্ত্রী সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে যথাসময়ে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়নও এই মিডফিল্ডারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে। সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বকাপে দেশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে জেডেন যেভাবে সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও গর্বের সাথে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাশাপাশি ক্লাব ক্যারিয়ারেও জেডেন অ্যাডামস ছিলেন দারুণ সফল। ঘরোয়া লিগে স্টেলেনবস এফসি দিয়ে তাঁর মূল ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেখানে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার পর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি উইন্ডোতে তিনি যোগ দেন আফ্রিকার অন্যতম পরাশক্তি ক্লাব মামেলোদি সানডাউনসে।
নতুন ক্লাবে গিয়েই তিনি অভূতপূর্ব সাফল্যের দেখা পান। দলটির হয়ে লিগ শিরোপার মেডেল গলায় তোলার পাশাপাশি মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেন তিনি। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়েই নিভে গেল এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
মন্তব্য