নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ: আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নেত্রকোণার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর ওই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন, যার ফলে শিশুটি শারীরিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদন জানায়। গত ৭ মে আদালত আসামিকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। রিমান্ড শেষে ১০ মে আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান অপরাধ প্রমাণের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও বর্তমান অবস্থা

আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গত ১৬ মে আসামিকে নেত্রকোণা জেলা কারাগার থেকে কড়া পাহারায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নেত্রকোণা কোর্ট পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট প্রাপ্তির পর মামলার অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময়রেখা প্রদান করা হলো:

তারিখঘটনার বিবরণ
২৩ এপ্রিলমদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের।
০৭ মেআদালত আসামিকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১০ মেরিমান্ড শেষে আদালতে হাজির এবং ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন মঞ্জুর।
১২ মেআদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুকে সিলেটের সেফ হোমে স্থানান্তর।
১৬ মেডিএনএ নমুনার জন্য আসামিকে নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর।
১৭ মেঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ।
২৮ জুনআদালত কর্তৃক মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য।

ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ

ঘটনার স্পর্শকাতরতা এবং ভুক্তভোগী শিশুর সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতের কাছে বিশেষ সুরক্ষার আবেদন জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে বিকেলে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সিলেটের একটি নিরাপদ আবাসন বা ‘সেফ হোম’-এ পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দালিলিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। বৈজ্ঞানিক এই পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্তের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে বিচারের পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর জেলহাজতে রয়েছেন এবং আগামী ২৮ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলাটি বর্তমানে নিবিড় তদন্তের অধীনে রয়েছে।