যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে ইরানের ওপর মঙ্গলবারের জন্য পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা তিনি স্থগিত করেছেন। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “খুবই গ্রহণযোগ্য” হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না।
তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে “কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
Table of Contents
সাম্প্রতিক সংঘাত ও পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। এর পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই ধারাবাহিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে আলোচনার সুবিধার্থে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু হামলা ঘটলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নতুন করে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন হামলা শুরু হলে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ও কৌশলগত গুরুত্ব
ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব ফেলছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির কিছু বন্দরের কার্যক্রম সীমিত করেছে বলে জানা যায়।
আলোচনার অগ্রগতি ও শর্ত
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এটি “খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি”, তবে চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি জানান, অতীতেও কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছানো হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেঙে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি “কিছুটা ভিন্ন” বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি বোমাবর্ষণ ছাড়াই সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, তবে তা তিনি সমর্থন করবেন।
ইরান জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।
ইরানি সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের একটি নির্দিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি হয়, তবে সেটি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগে তিনি পুরো কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন।
কৌশলগত সতর্কতা (তথ্যসূচক)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সামরিক ঘোষণা | ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত |
| কূটনৈতিক আলোচনা | কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যস্থতা |
| প্রধান শর্ত | ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা |
| সংঘাতের পটভূমি | ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলা ও পাল্টা ড্রোন হামলা |
| কৌশলগত এলাকা | হরমুজ প্রণালি—বিশ্ব তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ |
| আলোচনার মাধ্যম | পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা |
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
