এয়ারবাস থেকে আরো ১২০টি বিমান কিনবে চীন

ইউরোপীয় এভিয়েশন জায়ান্ট এয়ারবাসের জন্য একটি বিশাল বাজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আবারও পাকাপোক্ত করল চীন। ইউরোপীয় এই বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেইজিং আরও ১২০টি নতুন যাত্রীবাহী বিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা করছে। বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন জার্মানির নবনিযুক্ত চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস। এই চুক্তিকে ইউরোপ এবং চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চ্যান্সেলর মেৎসের প্রথম চীন সফর ও কূটনৈতিক সাফল্য

২০২৫ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল ফ্রেডরিখ মেৎসের প্রথম বেইজিং সফর। বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল সময়ে জার্মানি ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেৎস বলেন, “চীন এয়ারবাস থেকে বিপুল সংখ্যক বিমান অর্ডার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অর্ডারের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১২০টি। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সফর যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, এই সম্ভাব্য চুক্তিটিই তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।”

চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব ও মডেল

যদিও চ্যান্সেলর মেৎস ঠিক কোন মডেলের বিমান কেনা হবে বা এই ক্রয় প্রক্রিয়া কবে নাগাদ চূড়ান্ত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, চীন মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য এয়ারবাসের জনপ্রিয় A320neo এবং দীর্ঘ পাল্লার রুটের জন্য A350 মডেলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বাজারের চাহিদা মেটাতে এই নতুন বিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এয়ারবাসের সঙ্গে চীনের এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
অর্ডারের পরিমাণসর্বোচ্চ ১২০টি বিমান
ঘোষণা প্রদানকারীজার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস
মূল উৎপাদনকারীএয়ারবাস (ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম)
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীবোয়িং (যুক্তরাষ্ট্র)
সম্ভাব্য মডেলA320neo এবং A350 সিরিজ
বাণিজ্যিক গুরুত্বইউরোপীয় প্রযুক্তির ওপর চীনের নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি

ইউরোপীয় এভিয়েশনের জয় ও বোয়িংয়ের চ্যালেঞ্জ

এয়ারবাসের এই বিশাল অর্ডার পাওয়ার সংবাদটি মূলত মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বেইজিং বারবার এয়ারবাসের দিকে ঝুঁকেছে। এয়ারবাস ইতিমধ্যে চীনের তিয়ানজিনে তাদের একটি বিশাল অ্যাসেম্বলি লাইন পরিচালনা করছে, যা এই নতুন চুক্তির বাস্তবায়নকে আরও সহজ করবে।

চ্যান্সেলর মেৎস আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কেবল বিমান ক্রয়ই নয়, এয়ারবাসের সঙ্গে চীনের আরও কিছু প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চীনের এই বিশাল বিনিয়োগ ইউরোপের অ্যারোস্পেস শিল্পে হাজার হাজার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে এবং জার্মানির রপ্তানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরিশেষে বলা যায়, শি চিনপিং এবং ফ্রেডরিখ মেৎসের এই বৈঠক কেবল রাজনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এক বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ১২০টি বিমানের এই অর্ডার চূড়ান্ত হলে তা হবে এভিয়েশন ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি লেনদেন।