খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই মে ২০২৬, ১২:৪০ এএম

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয়। তবে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah কোনো ধরনের হামলা না চালালেও ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় বেসামরিক এলাকায় হতাহতের ঘটনা বাড়ছে এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার লেবাননের হারুফ শহরে একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। এর আগে বুধবার পৃথক হামলায় আট শিশুসহ মোট ২২ জন লেবানিজ নিহত হন বলে জানানো হয়েছে।
Lebanon Ministry of Public Health–এর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২ হাজার ৮৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়কালেই নিহত হয়েছেন ৬৫৭ জন। এসব পরিসংখ্যান লেবাননের সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, Israel তাদের উত্তর সীমান্তে ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধে দক্ষিণ লেবাননে একটি নিরাপত্তা বলয় বা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে এই অভিযানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বেসামরিক এলাকায় ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো এবং সিভিল ডিফেন্স স্থাপনায় হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তারা মন্তব্য করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, দুই দেশই চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত Yechiel Leiter–এর রাষ্ট্রদূত। তবে আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানায় Hezbollah। শেষ পর্যন্ত লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের স্বার্থে আলোচনায় অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ বাড়লেও সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন।
মন্তব্য