ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের সিয়াউ দ্বীপে সোমবার ভোরে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র নুরিয়াদিন গুমেলেং জানান, দুর্ঘটনায় ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। “দূর্ঘটনাস্থলগুলোর প্রধান সড়কগুলো পাথর, গাছের ডালপালা এবং ঘন কাদায় ঢাকা হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই কয়েকটি ভারী এক্সকেভেটর মোতায়েন করেছি,” তিনি জানান।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, বন্যার তোড়ে অন্তত ৪৪৪ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় স্কুল ও গির্জাগুলোকে সাময়িক শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
উত্তর সুলাওয়েসির গভর্নর ইউলিউস সেলভানাস বলেছেন, “এই বন্যায় কয়েকশটি ঘরবাড়ি এবং বেশ কিছু সরকারি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সুলাওয়েসি ছাড়াও জাভা, মালুকু এবং পাপুয়া দ্বীপে আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনিজ উত্তোলন এবং বনাঞ্চলের ব্যাপক উজাড় ইন্দোনেশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। চলতি বছর নভেম্বর মাসে সুমাত্রায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
নিচের টেবিলে সিয়াউ দ্বীপের বন্যায় প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য দেখানো হলো:
| বিবরণ | সংখ্যা / তথ্য |
|---|---|
| মৃতের সংখ্যা | ১৪ জন |
| নিখোঁজ | ৪ জন |
| গুরুতর আহত | ১৮ জন |
| আশ্রয়প্রাপ্ত | ৪৪৪ জন |
| উদ্ধারকারী দল | ১৬ সদস্য |
| ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবন | কয়েকশটি |
| ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন | এক্সকেভেটর ব্যবহার |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস ইন্দোনেশিয়ার এই অঞ্চলে বর্ষার সর্বাধিক সময়, ফলে এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সবসময় থাকে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এখন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে।









