শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীকে হত্যার পর তার দেহ ছয় টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন স্ত্রী আসমা আক্তার। পরে বিভিন্ন স্থানে দেহের অংশ ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি কিছু অংশ রেফ্রিজারেটরে রাখার চেষ্টা করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার পর শুক্রবার (১৫ মে) রাতে আসমা আক্তারকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং জানান, স্বামীর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জিয়া সরদার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে আসমার সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দেশে ফেরার পর দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ
ঘটনাটিকে আরও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনের জন্য নিচে সময়ক্রম দেওয়া হলো—
| তারিখ/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ১২ মে রাত | স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা |
| একই রাত | রড দিয়ে আঘাতে জিয়ার মৃত্যু |
| ১৩–১৪ মে | দেহ টুকরো করা ও লুকানোর চেষ্টা |
| ১৫ মে বিকাল | ড্রামে ভরে বিভিন্ন স্থানে দেহাংশ ফেলা |
| ১৫ মে সন্ধ্যা | রেফ্রিজারেটরে মাংস রাখার চেষ্টা |
| ১৫ মে রাত | দুর্গন্ধে স্থানীয়দের সন্দেহ ও অভিযোগ |
| ১৫ মে রাত | আসমা আক্তার আটক ও দেহাংশ উদ্ধার |
ঘটনার পর জানা যায়, অভিযুক্ত নারী দেহ লুকাতে লোহার ছুরি ব্যবহার করে শরীর ছয় ভাগে বিভক্ত করেন এবং হাড় ও মাংস আলাদা করার চেষ্টা করেন। পরে কিছু অংশ ড্রামে এবং কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। একটি অংশ নদীর তীরবর্তী এলাকায় এবং অন্য অংশ পৌরসভার বৃক্ষতলা এলাকায় পাওয়া যায় বলে তদন্তে উঠে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরোনো ভাড়া বাসায় রেফ্রিজারেটরে মাংস রাখার সময় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সন্দেহ হলে তারা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসমাকে আটক করে এবং দেহাংশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নিহতের আত্মীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আসমা দাবি করেছেন, স্বামী প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন এবং সেই ঘটনার সময় আবেগের বশে এ ঘটনা ঘটে গেছে।
পালং মডেল থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করা এবং বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুরো ঘটনার পেছনে পারিবারিক অশান্তি ও উত্তেজনা কাজ করেছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
