সিলেট টেস্টে টস জিতে পাকিস্তান প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে এবং প্রথম সেশন শেষে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান সংগ্রহ করে।
এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে তরুণ ওপেনার Tanzid Hasan–এর। তিনি বাংলাদেশের ১০৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষিক্ত হন। অভিষেক ক্যাপ তুলে দেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান Mushfiqur Rahim।
ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। টস হেরে ব্যাট করতে নামার পরই দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। Mahmudul Hasan Joy শূন্য রানে ফেরেন। প্রথম বলে এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ হলেও পরের বলেই অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।
এরপর Tamim Iqbal এবং Mominul Haque দ্বিতীয় উইকেটে ৪৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংস কিছুটা স্থিতিশীল করেন। তবে ইনিংস বড় হয়নি তামিমের। দশম ওভারের শেষ বলে মিড অনের ওপর দিয়ে শট খেলতে গিয়ে তিনি সহজ ক্যাচ দেন। ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফিরে যান তিনি।
এরপর মুমিনুল হকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে দলে ফেরা Khurram Shahzad বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন। ভেতরে ঢোকা একটি সুইং ডেলিভারিতে ব্যাট-প্যাড ফাঁক করে স্টাম্প ভেঙে দেন তিনি। মুমিনুল ৪১ বলে ২২ রান করে বোল্ড হন।
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাকিস্তানের ফিল্ডার Hasan Ali ফিল্ডিং করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পিচে পড়ে যান এবং স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে হাসপাতালে স্ক্যানের জন্য নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি আবার মাঠে ফেরেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের ইনিংস টিকিয়ে রেখেছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান Mushfiqur Rahim এবং অধিনায়ক Najmul Hossain Shanto। এই জুটিতে এখন পর্যন্ত ৩৮ রান যোগ হয়েছে। মুশফিক অপরাজিত ১৮ রানে এবং শান্ত অপরাজিত ২৬ রানে ক্রিজে আছেন।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন Mohammad Abbas। তিনি দুটি উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে খুররম শাহজাদ নেন একটি উইকেট।
প্রথম সেশনের স্কোরকার্ড (সংক্ষেপ)
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | আউটের ধরন |
|---|---|---|---|
| মাহমুদুল হাসান জয় | ০ | ২ | ক্যাচ |
| তানজিদ হাসান | ০ | — | ক্যাচ |
| তামিম ইকবাল | ২৬ | ৩৪ | ক্যাচ |
| মুমিনুল হক | ২২ | ৪১ | বোল্ড |
| মুশফিকুর রহিম | ১৮* | — | অপরাজিত |
| নাজমুল হোসেন শান্ত | ২৬* | — | অপরাজিত |
বাংলাদেশের ইনিংস এখন অনেকটাই নির্ভর করছে শেষ স্বীকৃত জুটির ওপর। প্রথম সেশনের ধাক্কা সামলে তারা যদি দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকতে পারেন, তাহলে ম্যাচে ফিরতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তান চাইবে দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় হতে না দেওয়া।
