খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই মে ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক: স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অন্তর্ভুক্তি এবং মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে এক নজিরবিহীন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এমবাপ্পেকে ক্লাব থেকে বহিষ্কারের দাবিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশনে সমর্থক ও ফুটবল অনুরাগীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পিটিশনটিতে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ৪৫ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, যা ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের একটি অংশ “এমবাপ্পে আউট” শিরোনামে এই অনলাইন পিটিশনটি শুরু করে। প্রাথমিকভাবে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল অন্তত ২ লক্ষ সমর্থকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে অভাবনীয় সাড়া পাওয়ায় সেই সংখ্যাটি বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। পিটিশন পেজটিতে এমবাপ্পের ছবির ওপর লাল রঙে ‘আউট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে লেখা হয়েছে: ‘যদি সত্যিই ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন, তবে চুপ থাকবেন না, কথা বলুন।’
তবে এই বিশাল সংখ্যক স্বাক্ষরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কারিগরি ও আইনি প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পিটিশন সাইটটিতে ইমেইল বা পরিচয় যাচাই করার কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় একজন ব্যক্তি একাধিকবার স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া এ ধরনের অনলাইন পিটিশনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এর মাধ্যমে ক্লাবের চুক্তিবদ্ধ কোনো খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা সম্ভব নয়। তবুও সংখ্যার বিশালত্ব ফুটবল পাড়ায় এমবাপ্পের বর্তমান ভাবমূর্তি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমবাপ্পের বিরুদ্ধে সমর্থকদের এই ক্ষোভের প্রধান কারণ হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক আচরণ ও সময়জ্ঞানকে দায়ী করা হচ্ছে। উরুর চোটের কারণে যখন তাঁর বিশ্রামে থাকার কথা ছিল, তখন তিনি ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপে ইয়টে ছুটি কাটাচ্ছেন—এমন অভিযোগ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্প্যানিশ অভিনেত্রী এস্টার এক্সপোসিতোর সঙ্গে তাঁর ছবি ও ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা তীব্রতর হয়। গুরুত্বপূর্ণ ‘এল ক্লাসিকো’র ঠিক আগ মুহূর্তে এমবাপ্পের এমন ক্যাজুয়াল জীবনযাপন ভক্তদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিনেত্রী এক্সপোসিতো তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মন্তব্যের ঘর সীমিত করলেও সমর্থকরা তাঁর পুরনো পোস্টগুলোতে গিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
কেবল মাঠের বাইরে নয়, মাঠের ভেতরেও এমবাপ্পের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি অনুশীলনের সময় একটি গোল করাকে কেন্দ্র করে দলের সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে তাঁর দুর্ব্যবহারের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে দলের ভেতরেও এই ফরাসি তারকাকে নিয়ে একটি গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অনেক কট্টর রিয়াল সমর্থক মনে করছেন, ক্লাবের ঐতিহ্যের তুলনায় এমবাপ্পের আচরণ অসংগতিপূর্ণ। উল্লেখ্য, এর আগে পিএসজিতে থাকাকালীনও লিওনেল মেসি ও নেইমারের সঙ্গে তাঁর তিক্ত সম্পর্ক নিয়ে ফুটবল বিশ্বে অনেক বিতর্ক হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ট্রফি খরা এবং মাঠের পারফরম্যান্সের নিম্নমুখী প্রবণতায় পুরনো সেই বিতর্কগুলো নতুন করে দানা বাঁধছে।
সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এছাড়া এমবাপ্পের ছুটি কাটানো তাঁর চোট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কি না, সে বিষয়েও ক্লাব কোনো মন্তব্য করেনি। রিয়ালের বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, খেলোয়াড়দের চোটের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল টিমের এখতিয়ার। তিনি আরও যোগ করেন, খেলোয়াড়রা তাঁদের ব্যক্তিগত অবসরে কী করবেন, তা একান্তই তাঁদের নিজস্ব বিষয়। তদুপরি, ২০২৯ সাল পর্যন্ত রিয়ালের সঙ্গে এমবাপ্পের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি থাকায় তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা বিশ্লেষকদের মতে প্রায় শূন্য।
আগামী রবিবার ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রতিক্ষিত ম্যাচ ‘এল ক্লাসিকো’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচে এমবাপ্পের খেলার সম্ভাবনা প্রবল। যদি এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ পরাজিত হয়, তবে এমবাপ্পে বিরোধী এই সমালোচনা আরও তীব্রতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জাতীয় দলের ক্ষেত্রে এমবাপ্পে এখনো নির্ভরযোগ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে তাঁর অংশগ্রহণ স্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এমবাপ্পে সমর্থকদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেন কি না। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ঐতিহাসিকভাবে সফল ক্লাবে থিতু হতে হলে কেবল গোল সংখ্যা নয়, বরং খেলোয়াড়সুলভ আচরণের মাধ্যমেই ভক্তদের হৃদয় জয় করা তাঁর জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য