সিটি ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা ১৬২ শতাংশ বৃদ্ধি

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য মুনাফা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯২ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় ০.৬ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১.৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল উন্নত হওয়ার পেছনে কোর ব্যাংকিং আয়ের প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঋণ থেকে সুদ আয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আয় ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকা থাকলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে এক হাজার ৩০৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া বিনিয়োগ খাত থেকেও ব্যাংকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ খাতে আয় ৬০৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মোট পরিচালন আয়ের মধ্যে বিনিয়োগ আয়ের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশ, যা ব্যাংকের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিম্নে সংশ্লিষ্ট সময়ের আর্থিক সূচকের তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হলো—

সূচক২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিক২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকপরিবর্তন
কর-পরবর্তী মুনাফা৯২ কোটি টাকা২৪১ কোটি টাকা+১৬২%
শেয়ারপ্রতি আয়০.৬ টাকা১.৬ টাকাবৃদ্ধি
ঋণ থেকে সুদ আয়১,১৪৩ কোটি টাকা১,৩০৬ কোটি টাকা+১৪%
বিনিয়োগ আয়৬০৩ কোটি টাকা১,০১৪ কোটি টাকাবৃদ্ধি
বিনিয়োগ আয়ের অংশউল্লেখ নেই৩২%

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এ বিষয়ে বলেন, মুনাফা বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকে কমে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ঋণ খাতে প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা উদ্বেগজনক এবং এটি ভবিষ্যতে ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে সুদ আয় ও বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধির ফলে মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ঋণ খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়টি ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই খাতে উন্নতি সাধন ব্যাংকের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।