খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৪১ এএম

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের দিনেই উৎসবের আমেজ রূপ নিয়েছে চরম সহিংসতায়। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রতীক পাওয়ার পরপরই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং একই দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ও সোহাগ নামের দুই কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
Table of Contents
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন। একই সময় ‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী (ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক) এবি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকরা একটি আনন্দ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের কাছাকাছি পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের রেশ ধরে সন্ধ্যায় গফরগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি মুক্তার হোসেনের কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল লোক। তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো পৌর শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
গফরগাঁও সংঘর্ষের সংক্ষিপ্ত চিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ইসলামিয়া স্কুল মোড় ও রেলস্টেশন এলাকা, গফরগাঁও। |
| ঘটনার সময় | বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। |
| আহতের সংখ্যা | ৫ জন (গুরুতর আহত: আব্দুল্লাহ ও সোহাগ)। |
| নিরাপত্তা বাহিনী | পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল। |
| বর্তমান অবস্থা | পৌর শহরে থমথমে পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন। |
| ক্ষয়ক্ষতি | ছাত্রদল সভাপতির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। |
সংঘর্ষের পর দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিএনপির প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করেছেন যে, ধানের শীষের সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে জড়ো হওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান তাঁর মিছিলে হামলার অভিযোগ করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে থানার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। কোনো উসকানি ছাড়াই ধানের শীষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে।”
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনএম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের দিনেই গফরগাঁওয়ের এই সংঘাত রাজনৈতিক উত্তাপের এক নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। যেখানে প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলার শপথ নিয়েছেন, সেখানে শুরুতেই এমন রক্তক্ষয় সাধারণ ভোটারদের মনে শঙ্কা জাগিয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে নির্বাচনী পরিবেশে দ্রুত শান্তি ফিরে আসবে।
মন্তব্য