বাংলাদেশে ভারতের বিধিনিষেধে কমছে রপ্তানি পরিমাণ

ভারতের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রভাবে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই–নভেম্বর) ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৬.৬৮ শতাংশ কমে ৭৬ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮১ কোটি ডলার।

প্রধান রপ্তানি পণ্যের হ্রাসের চিত্র:

রপ্তানি পণ্যচলতি অর্থবছরের জুলাই–নভেম্বর (মিলিয়ন USD)গত অর্থবছরের একই সময় (মিলিয়ন USD)হ্রাসের হার (%)
তৈরি পোশাক৩০০০৩২৫০৮.৮০
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য৯৭৫১১২০১৩.০
পাট ও পাটজাত পণ্য৫০০৭৯০৩৭.০

ভারতের স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি তিন দফায় বিধিনিষিদ্ধ হয়েছে। প্রথম দুই দফায় (১৭ মে ও ২৭ জুন) পোশাক, খাদ্যপণ্য, পাটপণ্য, তুলা-সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং কাঠের আসবাব রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরপর ১১ আগস্ট তৃতীয় দফায় আরও কিছু পাটপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিধিনিষেধ অনুযায়ী, পাট ও পোশাক পণ্য শুধুমাত্র মুম্বাইয়ের নভোসেবা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে। খাদ্যপণ্য, কোমল পানীয়, কাঠের আসবাব, তুলা-সুতার বর্জ্য ও প্লাস্টিক পণ্য বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা ছাড়া শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সংযুক্ত স্থলবন্দর ব্যবহার করতে হবে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, এই বিধিনিষেধের ফলে ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা কমেছে এবং খরচ বেড়ে গেছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মার্কিন বাজারের পাল্টা শুল্কের কারণে ভারতীয় ক্রেতাদের কাছ থেকে কম মূল্য পাচ্ছেন, ফলে তারা স্থানীয় বাজারে পণ্য কম দামে বিক্রি করছেন। সমুদ্রপথে রপ্তানিত পণ্যের সময়সাপেক্ষ ও অতিরিক্ত খরচও এই হ্রাসে প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের বাজার বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম সহজ না হলে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার না হলে সামনের মাসগুলোতে রপ্তানি আরও কমতে পারে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “রাজনীতি ও অর্থনীতির সমন্বয় না থাকলে বাংলাদেশি পণ্যের ভারতীয় বাজারে অবস্থান সংকুচিত হবে। নির্বাচিত সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে যৌক্তিক আচরণ নিশ্চিত করলে রপ্তানি হ্রাস রোধ করা সম্ভব।”