খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:৪২ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে অবৈধ পথে ইটালি নেওয়ার চেষ্টা চলাকালীন হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনরা এখনও মরদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য আহাজারি করছেন এবং আশপাশের মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন।
আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে অভিযুক্ত দালাল আবুল কালাম আজাদকে আটক করে স্বজনরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
নিহত রাকিব হোসেন স্বাধীন (২৩) উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভুতগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গোলাম কিবরিয়া ফিরোজের ছেলে। অভিযুক্ত দালাল আবুল কালাম আজাদ একই উপজেলার পূর্ণিমাগাতি ইউনিয়নের ঘিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ফিরোজ জানান, কালামের বড় ছেলে সাদ্দাম ইতালিতে বসবাস করছে। এ অবস্থায় তার ছোট ছেলে জাকারিয়ার সঙ্গে আমার ছেলে স্বাধীনকেও পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব গ্রহণের পর কালামের দুই মেয়ের জামাই উল্লাপাড়ার বন্যাকান্দি গ্রামের ইউনুস আলী ও মধ্যবড়হর গ্রামের মোন্নাফ আলী সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর তারা ২৫ লাখ টাকা প্রাথমিক টাকা হিসেবে প্রদান করেন।
চলতি বছরের ২২ মে, স্বাধীন ও জাকারিয়া বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রথমে ভারতের চেন্নাই, এরপর ধাপে ধাপে দুবাই, শ্রীলংকা, মিশর এবং সর্বশেষ লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বাধীন আটক আছে এমন তথ্য ব্যবহার করে কালাম আরও ১০ লাখ টাকা নেন। শ্রীলংকায় পৌঁছার পর জাকারিয়াকে আলাদা করা হয় স্বাধীন থেকে।
১২ নভেম্বর, ১২২ জনকে একটি ট্রলারে করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইতালি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রলার আংশিক ডুবে গেলে ট্রলারে থাকা ৯৭ জনকে মারধর করে হত্যা করা হয় এবং সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে স্বাধীনও ছিলেন। বেঁচে থাকা ৭ জন ১৮ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন।
স্বাধীনের মা নারগিস খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বাধীন এইচএসসি পাশ করে বিএ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল। কালাম ইতালিতে ১৫ বছর ছিলেন। স্বাধীন ও জাকারিয়া বন্ধু ছিলেন, তাই ছেলেকে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দালালরা তাকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
উল্লাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুপু কর জানান, স্বজনদের হাতে আটক হওয়া আবুল কালাম আজাদকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা প্রস্তুত চলছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | রাকিব হোসেন স্বাধীন |
| বয়স | ২৩ বছর |
| গ্রাম ও ইউনিয়ন | ইসলামপুর ভুতগাছা গ্রাম, বড়হর ইউনিয়ন, উল্লাপাড়া |
| দালালের নাম | আবুল কালাম আজাদ |
| দালালের গ্রাম | ঘিয়ালা গ্রাম, পূর্ণিমাগাতি ইউনিয়ন, উল্লাপাড়া |
| অর্থপ্রদানের পরিমাণ | ২৫ লাখ + ১০ লাখ = ৩৫ লাখ টাকা |
| গন্তব্য | ইটালি (পাশপাশি ভারতের চেন্নাই, দুবাই, শ্রীলংকা, মিশর, লিবিয়া) |
| সাগরে হত্যার তারিখ | ১২ নভেম্বর ২০২৫ |
| বেঁচে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা | ৭ জন (মাদারীপুর) |
| মামলা ও ব্যবস্থা | পুলিশের হাতে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলা প্রস্তুতি চলছে |
মন্তব্য