দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৯৬৬ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগের সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে জনস্বাস্থ্যগত একটি গুরুতর সংকেত হিসেবে দেখছেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬৬ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১১১ জন। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার আংশিক কার্যকারিতার ইঙ্গিত দেয়।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেছে। এই সময়ে দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৮৯৫ জনে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ হাজার ২৭৭ জন রোগী এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৩৪ জনে।
এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ জনে, যাদের অধিকাংশই শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব এবং জনসচেতনতার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি দ্রুত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি দেখা দিলে বা শিশুদের নিয়মিত টিকা না দিলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিরই প্রতিফলন।
সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। যদিও একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার আংশিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। তবে নতুন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
সময়কাল
সন্দেহজনক রোগী
নিশ্চিত রোগী
হাসপাতালে ভর্তি
সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র
সন্দেহজনক মৃত্যু
নিশ্চিত মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টা
৯৬৬
১১১
তথ্য নেই
তথ্য নেই
৪
০
১৫ মার্চ–১৭ জুন
৮৮,৮৯৫
১০,৬৩৪
৭৩,২৭৭
৬৯,৬৮৮
৫৬৮
৯৩
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনসাধারণকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া, শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা এবং জ্বর, র্যাশ বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই রোগ প্রতিরোধে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মন্তব্য