কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমানে তিনি ৭৮ বছর বয়সে রয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তখন তার বয়স দাঁড়াবে ৮৩ বছরে। সেই সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন এবং ব্যক্তিগত ধর্মীয় ও পারিবারিক জীবনে সময় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে উপস্থাপক আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফাইল আহমেদ–এর সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদ সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন না, কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে ওই সময়কালে প্রবীণ অনেক নেতাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি তোফায়েল আহমেদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন এবং বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে এ ধরনের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-সম্পৃক্ত বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের কারাবন্দি অবস্থায় রাখা বা দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখা অনুচিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন রাশেদ খান মেনন এবং আমির হোসেন আমু–এর বয়স ও রাজনৈতিক ভূমিকা। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জামিন ও মানবিক বিবেচনা থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার বক্তব্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধ-সম্পৃক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জামিন প্রদানের পক্ষে মত দেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময় কঠোর অবস্থান গ্রহণকারীরা পরবর্তীতে পরিবর্তিত বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তিনি সতর্ক করেন যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আচরণে অতিরিক্ত দ্বন্দ্ব বা সংঘাতমূলক অবস্থান গ্রহণ করা উচিত নয়।
নিচের টেবিলে সাক্ষাৎকারে উল্লিখিত প্রধান অবস্থান ও বক্তব্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | ফজলুর রহমানের বক্তব্য |
|---|---|
| রাজনৈতিক অবসর | ৮৩ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা |
| তোফায়েল আহমেদ | বয়স ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন |
| রাশেদ খান মেনন | দীর্ঘ কারাবাস ও জামিন না পাওয়া নিয়ে আপত্তি |
| আমির হোসেন আমু | বয়স্ক নেতাদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার দাবি |
| সাধারণ অবস্থান | মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিকদের প্রতি সহনশীলতা প্রয়োজন |
সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও অতিরিক্ত দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সবশেষে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে পারিবারিক ও ধর্মীয় জীবনে মনোযোগ দিতে চান এবং রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
