জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

সিলেট টেস্টে রোমাঞ্চকর লড়াই: সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে টাইগারদের দরকার ৮ উইকেট

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ ম্যাচটি বর্তমানে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রথম টেস্টে জয়লাভ করার পর নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের সামনে এখন রয়েছে ঐতিহাসিক সিরিজ নিশ্চিত করার দুর্দান্ত সুযোগ, অন্যদিকে সফরকারী পাকিস্তান দলের জন্য এই ম্যাচটি সিরিজ বাঁচানোর অন্তিম মিশন। ম্যাচের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের খেলা শেষে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন বাকি থাকা ৮টি উইকেট, আর পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ৩৩৬ রান।

চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান। বর্তমানে ক্রিজে অধিনায়ক শান মাসুদ ৪১ রান এবং বাবর আজম ২৪ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। এর আগে, ম্যাচের তৃতীয় দিন তথা সোমবার খেলা শেষ হওয়ার কিছু সময় বাকি থাকতে বাংলাদেশ দল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়ে যায়। নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের ৪৬ রানের অগ্রগামিতা বা লিড ছিল, যার ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য সর্বমোট ৪৩৬ রানের এক বিশাল ও পাহাড়সম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়।

চলমান সিলেট টেস্ট ম্যাচের বর্তমান গাণিতিক সমীকরণ, দলীয় অবস্থান এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

টেস্ট ম্যাচের বিভিন্ন সূচক ও গাণিতিক সমীকরণসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং রান পরিসংখ্যান
ম্যাচের ভেন্যু বা খেলার সুনির্দিষ্ট স্থানসিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ৩৯০ রান (অলআউট)
প্রথম ইনিংসের লিড বা অগ্রগামিতা৪৬ রান
পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য৪৩৬ রান
চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সংগ্রহ১০১ রান (২ উইকেট হারিয়ে)
জয়ের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান প্রয়োজন০৮টি উইকেট
জয়ের জন্য পাকিস্তানের বর্তমান প্রয়োজন৩৩৬ রান
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড৪১৮ রান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া, ২০০৩)

ক্রিকেটের প্রায় দেড়শ বছরের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়লাভ করার বিশ্বরেকর্ডটি এককভাবে নিজেদের দখলে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ক্যারিবীয়রা ৩ উইকেটের ব্যবধান এক অবিস্মরণীয় জয় লাভ করেছিল। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র চারবার চারশ’র বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার নজির রয়েছে। তবে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানদের সামনে বাংলাদেশ দল তার চেয়েও বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ফলে এই ম্যাচে পাকিস্তানকে যদি জয় ছিনিয়ে নিতে হয়, তবে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালীন এক নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে পাকিস্তান তাদের চতুর্থ ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করেছিল। তখন ২ ওভারের খেলা শেষে তাদের স্কোরকার্ডে কোনো রান বা উইকেটের পতন হয়নি। আজ চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বা ওপেনার মিলে সতর্কতার সাথে আরও ৮ ওভার পার করেন। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে এসে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাতটি হানেন বাংলাদেশের ডানহাতি দ্রুতগতির বোলার নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরের একটি খাটো লেন্থের বলে বব মারতে বা ব্যাট চালাতে গিয়ে আব্দুল্লাহ ফজল রানার অতিরিক্ত গতির কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন। বলটি ঠিকঠাক ব্যাটে না আসায় গালি অঞ্চলে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ানো মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। মিরপুরে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই অর্ধশতক বা হাফসেঞ্চুরি করা এই বাঁ-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এবার মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন।

প্রথম উইকেটের পতনের পর দলীয় সংগ্রহে মাত্র ১৪ রান যোগ হতেই আজান আওয়াইসকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। পা বাড়িয়ে বলটিকে রক্ষণাত্মকভাবে খেলার বা ডিফেন্স করার চেষ্টা করছিলেন আজান, কিন্তু বলটি কিছুটা ভেতরে ঢুকে পড়ায় তিনি লাইন মিস করেন। মিরাজের তাৎক্ষণিক ও জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে মাঠের আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান রিভিউ গ্রহণ করলে দেখা যায় যে বলটি কোনোভাবে লেগস্টাম্পে আঘাত করত। ফলে আম্পায়ারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ২১ রান করা আজানকে মাঠ ছাড়তে হয়। ৪৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং এখন পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের একটি কার্যকারী জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর