বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সারা দেশে বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওই সময়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে। আঞ্চলিক হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ঢাকা অঞ্চলের জন্য।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’র তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যার পিক সময়ে ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬৯৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এটিই সর্বোচ্চ। ফলে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের মাত্রা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকার পর ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩৫০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস রয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলে ৩১৫ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ৩০০ মেগাওয়াট এবং রংপুরে ২৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি হতে পারে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৯০ মেগাওয়াট, সিলেটে ১৫০ মেগাওয়াট এবং বরিশালে ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
| অঞ্চল | সম্ভাব্য লোডশেডিং |
|---|---|
| ঢাকা | ৬৯৮ মেগাওয়াট |
| ময়মনসিংহ | ৩৫০ মেগাওয়াট |
| খুলনা | ৩৫০ মেগাওয়াট |
| কুমিল্লা | ৩১৫ মেগাওয়াট |
| রাজশাহী | ৩০০ মেগাওয়াট |
| রংপুর | ২৫০ মেগাওয়াট |
| চট্টগ্রাম | ১৯০ মেগাওয়াট |
| সিলেট | ১৫০ মেগাওয়াট |
| বরিশাল | ১০০ মেগাওয়াট |
আঞ্চলিক পূর্বাভাসগুলো মিলিয়ে সন্ধ্যার পিক সময়ে মোট সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট। এর অর্থ, ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সন্ধ্যার সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। বাসাবাড়িতে আলো, বৈদ্যুতিক পাখা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমও সক্রিয় থাকে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে পিক সময়ে তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে।
রাজধানীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা অঞ্চলের জন্য ৬৯৮ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস রয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পূর্বাভাসের তুলনায়ও ৩৪৮ মেগাওয়াট বেশি। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে।
তবে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা পরিমাণই যে প্রতিটি এলাকায় বাস্তবে একইভাবে কার্যকর হবে, এমন নয়। বিদ্যুতের তাৎক্ষণিক চাহিদা, উৎপাদনের পরিমাণ, সঞ্চালন ব্যবস্থার অবস্থা এবং বিতরণ পর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর প্রকৃত লোডশেডিং নির্ভর করবে। চাহিদা কমে গেলে ঘাটতির পরিমাণও কমতে পারে। আবার কোনো সময়ে সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হলে পূর্বাভাসের তুলনায় পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
লোডশেডিং দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি দোকানপাট, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কার্যালয় ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শনিবারের পূর্বাভাসে তাই দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সন্ধ্যার পিক সময়কে বাড়তি চাপের সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন এলাকায় কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, তার সুনির্দিষ্ট সময় স্থানীয় বিতরণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা ও তৎকালীন চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।









