জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

চট্টগ্রামে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করার প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন মুরাদপুর ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আসা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই আকস্মিক অভিযানে নেতাকর্মীদের মিছিলের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মুরাদপুরে শুক্রবার দুপুরে ওই রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ঝটিকা মিছিল বের করা। বিষয়টি পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারিতে আসার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক এবং পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্তের সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মুরাদপুর ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সরে পড়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ দ্রুত চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ১৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মুরাদপুর এলাকাটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় সেখানে যেকোনো জমায়েত বা রাজনৈতিক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতার কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কগুলোতে পুলিশের টহল আগে থেকেই জোরদার ছিল। শুক্রবার ছুটির দিন হলেও পুলিশের এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে ওই এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ পায়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় নেওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তারা এই জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
থানায় প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, বেআইনি জমায়েত ও নাশকতার চেষ্টার বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ইন্ধনদাতা বা পরিকল্পনাকারী রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর