জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

উত্তর কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান কিম ইয়ং নামের বিদায়

উত্তর কোরিয়ার রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘজীবী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কিম ইয়ং নাম-এর প্রয়াণ দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে। ৯৭ বছর বয়সে ক্যান্সারের জটিলতায় তাঁর এই চলে যাওয়া উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ‘কিম পরিবার’-এর জন্য এক বড় ক্ষতি, কারণ তিনি ছিলেন তিন প্রজন্মের (কিম ইল সুং, কিম জং ইল এবং কিম জং উন) অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী।

আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের জীবন ও অবদানের একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

কিম ইয়ং নাম: এক নজরে জীবন ও ক্যারিয়ার

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
জন্ম ও শিক্ষাপিয়ংইয়ং বিশ্ববিদ্যালয় ও মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি।
দায়িত্বকাল১৯৯৮ থেকে ২০১৯ (উত্তর কোরিয়ার সংসদের প্রধান)।
পদবিসুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রেসিডিয়াম সভাপতি (আলংকারিক রাষ্ট্রপ্রধান)।
মৃত্যুর তারিখ৩ নভেম্বর ২০২৫।
মৃত্যুর কারণক্যান্সার ও একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়া (Multiple Organ Failure)।
সফল উত্তরসূরিচো রিয়ং হে (২০১৯ সালে স্থলাভিষিক্ত হন)।

উত্তর কোরিয়ার ‘আন্তর্জাতিক মুখ’

কিম ইয়ং নাম কেবল দেশের ভেতরেই প্রভাবশালী ছিলেন না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি উত্তর কোরিয়ার ‘নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিম জং উন বা তাঁর বাবা কিম জং ইল যখন খুব একটা বিদেশ ভ্রমণ করতেন না, তখন কিম ইয়ং নামই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাতে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিতেন।

উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

  • কূটনৈতিক দক্ষতা: মস্কোতে পড়াশোনা করার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।

  • বিশ্বস্ততা: উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার পালাবদলের সময় অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শুদ্ধি অভিযানের শিকার হলেও, কিম ইয়ং নাম তাঁর আনুগত্যের কারণে আমৃত্যু কিম পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ থেকেছেন।

  • ২০১৮ অলিম্পিক: ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দুই কোরিয়ার বরফ গলা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।


শোক ও শেষকৃত্য

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন-এর কফিনে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন প্রমাণ করে যে, উত্তর কোরিয়ার বর্তমান প্রশাসনে তাঁর অবস্থান কতটা উঁচুতে ছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘পুরোনো প্রজন্মের বিপ্লবী কমরেড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আগামী ৬ নভেম্বর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

একটি ছোট পর্যবেক্ষণ: কিম ইয়ং নামকে সরিয়ে ২০১৯ সালে যখন চো রিয়ং হে-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন অনেকেই মনে করেছিলেন এটি উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ। তবে পদ থেকে সরে যাওয়ার পরেও কিম জং উন নিয়মিত তাঁর পরামর্শ নিতেন বলে জানা যায়।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর