জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

একদিনে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৩ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৩ জনে। পাশাপাশি নিশ্চিত হাম এবং সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামের কারণে হয়েছে। অন্যদিকে ৮৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

শুধু মৃত্যুই নয়, নতুন সংক্রমণের হিসাবও উদ্বেগ তৈরি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জন।

একই সময়ে আরও ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনে। অর্থাৎ, নিশ্চিত হাম শনাক্তের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আসছেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৯ আগস্ট সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। শিশুদের মধ্যে হামজনিত জটিলতার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি হলেও টিকা না নেওয়া বা পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকা যেকোনো বয়সী মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।

সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গ হামের ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘরে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা অন্য ঝুঁকিপূর্ণ কেউ থাকলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও অনেক বেশি। ফলে রোগী শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা গেলে একই সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণের বিস্তার কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য তাই শুধু নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নয়, বরং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপেরও একটি চিত্র তুলে ধরছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং টিকাদানের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

Tags :

SHOWRAV BISHWAS

সর্বশেষ খবর