খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৭ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় দুই বিএনপি নেতার নেতৃত্বে তাঁকে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক এবং স্থানীয়ভাবে একটি গরুর খামার পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে তিনি পটুয়াখালী আদালতে গিয়েছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে ফেরার পথে বেলা সোয়া একটার দিকে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় পৌঁছালে এক ব্যক্তি তাঁর পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নেন। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ফেলেন।
নাসির উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী। তাঁরা দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালে তাঁকে জোরপূর্বক একটি মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। এরপর একাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাঁকে বাউফলে আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাউফলের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। নাসির উদ্দিনের দাবি, ওই কার্যালয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আরও জানান, অপহরণের সময় তাঁর ব্যবহৃত বিকাশ হিসাব থেকে তিন হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ সাড়ে তিন হাজার টাকাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। উদ্ধার হওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে এ ঘটনাকে অনেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই বিএনপি নেতা। আলী আজম চৌধুরী বলেন, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে মাসুম বিল্লাহও অভিযোগকে অসত্য বলে উল্লেখ করে জানান, অপহরণ বা নির্যাতনের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, অপহরণের সূচনা যেহেতু পটুয়াখালী সদর থানা এলাকায় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ, অপহরণের অভিযোগ এবং মুক্তিপণ দাবির মতো গুরুতর বিষয় সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য