খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৫ এএম

লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি এবং দেশটির এক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে এক অতর্কিত হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। ৫৩ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু লিবিয়ার বর্তমান ভঙ্গুর ও অস্থিতিশীল রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা এবং নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
লিবিয়ায় দায়িত্বরত আল-জাজিরার প্রতিনিধি আহমেদ খলিফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের পর থেকেই সাইফ আল-ইসলাম জিনতান শহরকে তাঁর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এক দশক ধরে সেখানেই তিনি নিভৃতবাসে ছিলেন এবং নিজের রাজনৈতিক শক্তিবলয় পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন। যদিও তাঁর উপদেষ্টারা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন, তবে লিবিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।
সাইফ আল-ইসলামের জীবনের প্রধান কিছু মাইলফলক নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যায় | বিবরণ |
| পরিচয় | মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র এবং লিবিয়ার সাবেক নীতি নির্ধারক। |
| শিক্ষা | লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (LSE) থেকে ২০০৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। |
| রাজনৈতিক ভূমিকা | লিবিয়ার প্রগতিশীল মুখ হিসেবে পরিচিতি এবং পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা। |
| কারাবাস | ২০১১ সালে বিদ্রোহীদের হাতে বন্দি হন এবং জিনতানে দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকেন। |
| মুক্তি | ২০১৭ সালে এক সাধারণ ক্ষমার অধীনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। |
| বর্তমান অবস্থা | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জিনতানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত। |
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কেবল একজন শাসকের পুত্র ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও সুবক্তা। ২০০৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি করার সময় তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিশ্ব শাসনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা। ২০০০ সালের শুরুর দিকে লিবিয়ার ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে তিনি প্রধান কারিগরের ভূমিকা পালন করেছিলেন। লিবিয়াকে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি একসময় পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে লিবিয়ায় যখন গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, তখন সাইফ তাঁর বাবার পক্ষ নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। ওই বছরের অক্টোবর মাসে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফকে মরুভূমি থেকে আটক করে জিনতানি বিদ্রোহীরা। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পরোয়ানা জারি করলেও জিনতানের মিলিশিয়ারা তাঁকে হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যু লিবিয়ার রাজনীতিতে বিদ্যমান গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিতে পারে। তিনি ছিলেন গাদ্দাফি সমর্থকদের একমাত্র আশার আলো। তাঁর হঠাৎ প্রস্থান লিবিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দেশটিকে নতুন করে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মন্তব্য