চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ দল। ইনিংসের শুরুতেই কিউই পেসারদের নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিক বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে না পেরে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। মাত্র ৩২ রানের মধ্যে দুটি উইকেট হারানোর পর সৌম্য সরকারের বিদায়ে স্কোরবোর্ডে চাপ আরও বেড়ে যায়।
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুতে তারা অত্যন্ত সতর্কভাবে খেললেও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এবং ইনিংস গড়ে তোলেন। একদিকে লিটন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন, অন্যদিকে শান্ত ধৈর্যের সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করে দলকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যান।
ধীরগতির শুরুর পর এই জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তারা চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৬০ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ, যা বাংলাদেশের ইনিংসকে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে। লিটন দাস দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন।
তবে ব্যক্তিগত ভুল শটে শেষ পর্যন্ত থেমে যায় তার ইনিংস। ৯১ বলে ৭৬ রান করে বাঁহাতি স্পিনারের বলে কভারে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা, যা দলের ইনিংসে গতি আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো অর্ধশতক পূর্ণ করে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ব্যাটিংয়ে ছিল দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শট নির্বাচনের পরিপক্বতা।
লিটনের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তাওহিদ হৃদয়। তিনি শান্তর সঙ্গে নিয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রথম দিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল বিপর্যস্ত। ইনিংসের শুরুর দিকেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে দল চাপে পড়ে যায়। তবে লিটন ও শান্তর জুটি সেই চাপ সাময়িকভাবে কাটিয়ে দেয় এবং ম্যাচে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
নিচে গুরুত্বপূর্ণ জুটির পরিসংখ্যান দেওয়া হলো—
| জুটির ধরণ | রান | ব্যাটসম্যান |
|---|---|---|
| চতুর্থ উইকেট | ১৬০ | লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত |
| অবিচ্ছিন্ন চলমান জুটি | ১২৫-এর বেশি | নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় |
| তৃতীয় উইকেট পর্যন্ত সংগ্রহ | ১০৭ | বিভিন্ন ব্যাটসম্যান |
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে শুরুতেই বোলিং আক্রমণ ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণ। বিশেষ করে এক পেসার ৫ ওভারে ১৬ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন।
সব মিলিয়ে লিটন-শান্তর জুটি ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন দলের মূল ভরসা শান্তর ব্যাটিং, যিনি ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর গড়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
