খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই মে ২০২৬, ৪:০ পিএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করলে তা দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কার্যত রিজার্ভ এখন ৩১ বিলিয়ন ডলারের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের স্থিতিশীলতা এবং আমদানি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি প্রধান কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক সরবরাহও বেড়েছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলোতে আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরছে।
অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ডলারের ওপর চাপ কমেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগের মতো অতিরিক্ত ডলার বাজারে ছাড়তে হচ্ছে না, যা রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েক বছর আগে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ডলারের বাড়তি চাহিদার কারণে পরবর্তীতে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। পাশাপাশি আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত দুই ধরনের রিজার্ভ হিসাব প্রকাশ করে থাকে—মোট রিজার্ভ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। মোট রিজার্ভে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব বৈদেশিক সম্পদ ও তহবিল অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেখানে কিছু দায়ও বিবেচনায় আসে। অন্যদিকে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য অংশই কেবল গণনায় রাখা হয়।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক রিজার্ভের চিত্র তুলে ধরা হলো—
| রিজার্ভের ধরন | পরিমাণ (ডলার) | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| মোট রিজার্ভ | ৩৫.৬২ বিলিয়ন | কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক সম্পদ |
| ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ | ৩০.৯৬ বিলিয়ন | আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য অংশ |
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোকে অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য