ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানায়। মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তেহরান এই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহারে কড়াকড়ি
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেহরানের ‘ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন’ (FIR)-এর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সমস্ত বিমানবন্দরে বেসামরিক ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির অধিকাংশ বিমানবন্দর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
বর্তমানে ইরানে সীমিত পরিসরে সচল থাকা বিমানবন্দরগুলোর তালিকা ও সেগুলোর পরিচালনা বিধি নিচে দেওয়া হলো:
| সচল বিমানবন্দরের নাম | কার্যক্রমের সময়সীমা | বিশেষ শর্তাবলী |
| তেহরান মেহরাবাদ বিমানবন্দর | সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত | প্রতি ফ্লাইটে নতুন অনুমতি প্রয়োজন |
| ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত | শুধুমাত্র দিনের আলোতে চলাচল সম্ভব |
| ইসফাহান বিমানবন্দর | দিনের বেলা সীমিত কার্যক্রম | বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে পরিচালনা |
| ইয়াজদ বিমানবন্দর | দিনের বেলা সীমিত কার্যক্রম | সংস্থার কঠোর নজরদারি |
| অন্যান্য (৪টি ছোট বিমানবন্দর) | দিনের বেলা সীমিত কার্যক্রম | জরুরি অবস্থা বিবেচনাধীন |
বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ৮টি বিমানবন্দর চালু রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই বিমানবন্দরগুলোতেও রাতে কোনো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নেই। প্রতিটি এয়ারলাইনসকে তাদের প্রতিটি ট্রিপের জন্য আলাদাভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার কাছ থেকে নতুন ক্লিয়ারেন্স বা অনুমোদন গ্রহণ করতে হচ্ছে।
মার্কিন রণপ্রস্তুতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বাইডেন প্রশাসন ইরানের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে।
একই সময়ে ওয়াশিংটনে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বনির্ধারিত সাপ্তাহিক কর্মসূচি পরিবর্তন করে হোয়াইট হাউসে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক কর্মসূচি পরিবর্তনকে বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
একদিকে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, অন্যদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। ফলে আকাশসীমা বন্ধের মাধ্যমে তারা মূলত সম্ভাব্য মিসাইল বা ড্রোন হামলা থেকে বেসামরিক বিমানগুলোকে রক্ষা করতে চাইছে। এই সামরিক উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
