খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম এলাকায় মাটির নিচে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন বাঙ্কারে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর কড়া নজরদারি ও সাহসী তৎপরতার মুখে অবশেষে এই মাদক চক্রের অন্যতম এক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি চারিগ্রাম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অত্যন্ত সুকৌশলে মাটির নিচে এই বাঙ্কারটি তৈরি করে তার অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা জড়িত পুরো চক্রটিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, চারিগ্রামের ওই ভাড়াটিয়া এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত ও সন্দেহজনক আনাগোনা এবং বিভিন্ন অপরিচিত মানুষের নিয়মিত যাতায়াত দীর্ঘ দিন ধরেই স্থানীয়দের নজরে আসছিল। বিষয়টির পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসীর মনে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে।
এই সন্দেহের সূত্র ধরেই সচেতন বাসিন্দারা গত কিছু দিন ধরে ওই নির্দিষ্ট বাড়ি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন। সম্প্রতি তাদের এই সুসংগঠিত নজরদারির ফলেই মাটির নিচের ওই গোপন বাঙ্কারের পুরো বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে এবং মাদক ব্যবসার অকাট্য প্রমাণ মেলে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে জানা গেছে, মাটির নিচে নির্মিত ওই বাঙ্কারটি ছিল অত্যন্ত সুকৌশল এবং গোপনীয়তায় মোড়া, যা বাইরে থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই আঁচ করা সম্ভব ছিল না।
এই বাঙ্কারটিকে মূলত দুটি প্রধান উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত মাদক চক্রটি:
মাদকদ্রব্য মজুদ ও সংরক্ষণ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত তল্লাশি এড়াতে এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য এই আন্ডারগ্রাউন্ড চেম্বার বা বাঙ্কার ব্যবহার করা হতো।
নিরাপদ বিক্রয় কেন্দ্র: বাঙ্কারের ভেতরেই মাদক কেনাবেচার মূল চুক্তি এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রির যাবতীয় কার্যক্রম অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পাদন করা হতো।
বাঙ্কারের ভেতরে মাদকের বিশাল মজুদের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর, স্থানীয় সচেতন সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে ওই বাড়িতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে তারা অভিযুক্ত মাদক কারবারিকে সরাসরি হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আটক করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে স্থানীয়রা অবিলম্বে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন এবং অভিযুক্তকে তাদের কাছে সোপর্দ করেন।
এই ঘটনার খবর চারিগ্রামসহ পুরো সিংগাইর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে এই বাঙ্কার নির্মাণ এবং অর্থায়নের পেছনে জড়িত অন্যান্য মূল হোতাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাটির নিচে বাঙ্কার তৈরি করে মাদক ব্যবসার এই অভিনব ও বিপজ্জনক কৌশলের পেছনে আর কার কার ইন্ধন রয়েছে, তা উদঘাটনে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য