ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে মোট ৩৫ শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে নতুন করে আরও ২৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০ শিশু।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মারা যাওয়া শিশুটি সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায়। গত বুধবার, ২০ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার, ২২ মে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যু সনদ অনুযায়ী, শিশুটি হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হলে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পরিস্থিতিকে সংকটাপন্ন করে তোলে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে আরও পাঁচ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। এ সময় কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়নি।
গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫৬০ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৪২৫ শিশু।
নিচে হাসপাতালের সর্বশেষ পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভর্তি শিশু | ১,৫৬০ |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে | ১,৪২৫ |
| মোট মৃত্যু | ৩৫ |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন | ১০০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ২৯ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে | ৫ |
হাসপাতাল সূত্র আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অল্পসংখ্যক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে। তবে মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালটিতে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে ওই আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনটি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত শিশুদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
