খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ৩:৪৯ পিএম

জাপানের চিবা প্রদেশে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। এর প্রভাবে রাজধানী টোকিওসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আনাদোলু জানায়, জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চিবা প্রদেশের ভূগর্ভে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জাপানের নিজস্ব সাত মাত্রার ভূমিকম্প তীব্রতা স্কেলে এর সর্বোচ্চ তীব্রতা ছিল ৪, যা মাঝারি মাত্রার কম্পন হিসেবে বিবেচিত হলেও ভবন ও অবকাঠামোতে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়োকোসিবা শহরের প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। গভীর ভূমিকম্প হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
ভূমিকম্পের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। রেল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পারমাণবিক স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করা হয়। প্রাথমিক মূল্যায়নে কোথাও বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা বা গুরুতর ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি সম্ভাব্য পরাঘাতের বিষয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প বলয়ের ওপর অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ কারণে দেশটির ভবন নির্মাণে কঠোর ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা অনুসরণ করা হয় এবং নিয়মিত দুর্যোগ মোকাবিলা মহড়ার আয়োজন করা হয়। ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, এর মাত্র এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার, জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। সেটির কেন্দ্রস্থল ছিল কুজি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং প্রায় ৫১ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে। পরপর দুই দিনের ব্যবধানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও সর্বশেষ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য