নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার জেরে ভয়াবহ সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতার একাংশ সন্দেহভাজনদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অন্তত আটটি বসতঘরে আগুন দেয় এবং একাধিক স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রাক-মুন্সিরহাট এলাকায় জুবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) এবং তাঁর ভাই রিমন বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। একদল দুর্বৃত্ত লাঠি ও রড দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় রাকিব গুরুতর আহত হন এবং দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরদিন রোববার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে সন্দেহভাজনদের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালায়। বেলা ১১টার দিকে স্বর্ণপাড়া এলাকায় মনতাজ মেম্বার, রফিকুল্লাহ, পারভীন আক্তার ও মামুনসহ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আসবাবপত্র লুট করে এবং পরে অন্তত আটটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতা না ঘটে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, খানপুর গ্রামের ভোলাহাজী বাড়ি ও স্বর্ণকার পাড়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির সময় নিহত রাকিব পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে সেই ঘটনার পরই তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাপ্রবাহ নিচে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলো—
| সময় | ঘটনার বিবরণ |
|---|---|
| শনিবার রাত ৯টা | প্রাক-মুন্সিরহাট এলাকায় রাকিব ও তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা |
| শনিবার রাত | আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর রাকিবের মৃত্যু ঘোষণা |
| রোববার সকাল | এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে |
| রোববার বেলা ১১টা | সন্দেহভাজনদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ |
| ঘটনার পরপরই | আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ |
জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত সদস্য ও গোয়েন্দা দল কাজ করছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।
