বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে চার লাখ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং রপ্তানি খাতে গতি ফিরিয়ে আনা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে একটি নীতিগত প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সরকারের প্রধান নির্বাহীর অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। অনুমোদন পাওয়ার পর এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় বড় শিল্প খাতে দুই লাখ কোটি টাকা, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে এক লাখ কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ স্বল্পমেয়াদি চলতি মূলধন ঋণ হিসেবে এক বছর থেকে আঠারো মাস মেয়াদে বিতরণ করা হবে, যাতে বন্ধ ও স্থবির থাকা কারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।

তহবিল বণ্টন কাঠামো

খাতবরাদ্দ (টাকা)
বড় শিল্প২,০০,০০০ কোটি
কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প১,০০,০০০ কোটি
কৃষি খাত১,০০,০০০ কোটি
মোট৪,০০,০০০ কোটি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের অভিঘাত, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতার কারণে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্বে চালু থাকলেও সংকটে পড়ে বন্ধ হয়েছে, এই সুবিধা মূলত তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের জন্য নিশ্চিত বাজার ও চাহিদা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অর্থায়নের উৎস নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এটি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নে হবে নাকি সরকারি বাজেট থেকে আংশিক সহায়তা নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থায়নের সম্ভাবনাই বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এ ধরনের অর্থ সরবরাহ মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কাও রয়েছে।

ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ সুদে অর্থ গ্রহণ করবে এবং উদ্যোক্তাদের ঋণের সুদ নির্ধারিত হবে বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির হারের কিছুটা উপরে, তবে নীতি সুদের হারের নিচে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে বাণিজ্য সংগঠন এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এক হাজার দুই শতাধিক বন্ধ ও আংশিক চালু শিল্পপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে। একশ কোটি টাকার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠান এবং এর নিচের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পৃথক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত নয়, কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানই এই সুবিধার আওতায় আসবে। খেলাপি ঋণ থাকলে আগে তা পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে কিছু শিল্পগোষ্ঠীকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং আংশিকভাবে উৎপাদন পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অর্থনীতিবিদরা এই উদ্যোগকে নীতিগতভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অর্থায়নের উৎস এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তারা মনে করেন, কোন প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসইভাবে উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম, তা যাচাই করে তবেই অর্থ বরাদ্দ করা উচিত। পাশাপাশি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা দিলে তা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।