বগুড়ায় আত্মহত্যাচেষ্টার পর পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে

বগুড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তার নাম রবিউল ইসলাম। তিনি বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা ডিএসবিতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর।

রোববার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার Dhaka Medical College Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার হোসেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকালে বগুড়া শহরের জানেসাবা হাউজিং এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রবিউল ইসলাম। ওই সময় তিনি একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। ঘটনার সময় বাসার পুরুষ সদস্য বাইরে ছিলেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।

গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে বগুড়ার Shaheed Ziaur Rahman Medical College Hospital-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে এক নারীর সঙ্গে রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে। এরপর পাশের একটি কক্ষে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন বলেন, রবিউল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ বগুড়ায় আনা হবে। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

রবিউল ইসলাম বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের কর্মসম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বিভাগে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও মানসিক চাপজনিত বিভিন্ন ঘটনায় আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক জটিলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। যদিও এই ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তদন্তসাপেক্ষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এদিকে রবিউল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার সহকর্মী ও পরিচিতজনেরা ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। পরিবার-সংক্রান্ত বিরোধ এবং মানসিক চাপ কীভাবে একজন ব্যক্তির জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।