খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ১১:২২ পিএম

সাতক্ষীরা সদর এলাকায় আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে পেয়ারা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের এক লোমহর্ষক ও বর্বর অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত ওই শিশুকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় বর্তমানে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসায় রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির এক কোমলমতি শিক্ষার্থীর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এই অমানবিক ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী বাড়ির এক কিশোর তাকে গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। অবুঝ শিশুটি সরল বিশ্বাসে তার সঙ্গে গেলে সুযোগ বুঝে ওই কিশোর তাকে পাশের একটি নির্জন ও ফাঁকা বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলে অভিযুক্ত কিশোর তাকে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে আনে। এই সময় শিশুর কান্নার আওয়াজ পেয়ে তার এক চাচি এগিয়ে এলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত কিশোরটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনার পরপরই শিশুটির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সুদেষ্ণা সরকার ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে জানান, যখন শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং সে ভীষণ যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে চারটি সেলাই দেওয়া হয়। এরপর রক্তক্ষরণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা চললেও সে এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয়। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান কামরুন নাহার জানান, শিশুটির শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং সে প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের একটি দল তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এখনই তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। আরও অন্তত দু-একদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার অগ্রগতির কথা বলা সম্ভব হবে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে যান সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার। তিনি চিকিৎসাধীন শিশুর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কিশোর আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশ অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
মন্তব্য