পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল তিনজনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিয়াল্লিশহর এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ তিনজন নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে মাছবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আনার পাশাপাশি মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিহতরা হলেন অটোরিকশাচালক মাহবুব হোসেন (৪৫), যাত্রী জোসনা বেগম (৪০) এবং তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আশরাফুল ইসলাম। আহত হয়েছেন জোসনা বেগমের স্বামী কাউসার মিয়া (৫০) এবং তাঁদের চার বছর বয়সী কন্যা আদিবা। নিহত ও আহতদের সবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে কাউসার মিয়া তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সরাইল-বিশ্বরোড এলাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে অটোরিকশাটি সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবোঝাই পিকআপ ভ্যান সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব হোসেন, জোসনা বেগম এবং শিশু আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে গুরুতর আহত কাউসার মিয়া ও তাঁর মেয়ে আদিবার অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানবিয়াল্লিশহর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর
সড়ককুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক
সময়শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা
জড়িত যানবাহনমাছবোঝাই পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা
নিহত৩ জন
আহত২ জন
নিহতদের পরিচয়মাহবুব হোসেন, জোসনা বেগম, আশরাফুল ইসলাম
আহতদের পরিচয়কাউসার মিয়া, আদিবা
চিকিৎসা অবস্থাআহতদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে

দুর্ঘটনার পর সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপ ভ্যানের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট যানবাহন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, চালকদের ক্লান্তি, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং ধীরগতির যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভারী যানবাহন একই লেনে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পৃথক লেন ব্যবস্থা, নিয়মিত যানবাহন তদারকি, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। স্বামী ও কন্যা হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন, আর একই পরিবারের মা ও শিশু সন্তানকে হারানোর বেদনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে মহাসড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।